Showing posts with label West Bengal. Show all posts
Showing posts with label West Bengal. Show all posts
প্ৰাক্তন রাষ্ট্ৰপতি প্রণবের বীরভূমের বাড়িতেও হাজির ছিলেন আরএসএস নেতারা

প্ৰাক্তন রাষ্ট্ৰপতি প্রণবের বীরভূমের বাড়িতেও হাজির ছিলেন আরএসএস নেতারা


কলাকাতা : রাষ্ট্রপতি ভবন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। বয়স এখন ৮২। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে ছিলেন। তাই প্রথামতো সক্রিয় রাজনীতির বাইরে। কিন্তু ঢেঁকি স্বর্গে গিয়েও ধান ভানে। তাই ভারতীয় রাজনীতির দীর্ঘ কালের ‘চাণক্য’ প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠতাকে কিছুতেই অরাজনৈতিক চোখে দেখতে পারছে রাজনৈতিক শিবিরের বিরাট অংশ। এতেই অবশ্য শেষ নয়। সঙ্ঘের নেতৃত্ব আর যা জানাচ্ছে, তা আরও চাঞ্চল্যকর। আরএসএস সর্বভারতীয় নেতৃত্ব শুধু রাষ্ট্রপতি ভবনে নয়, প্রণববাবুর বীরভূমের বাড়ি থেকেও ঘুরে এসেছেন। খবর সঙ্ঘ সূত্রের। ২০১৫ সালে প্রথম বার সরসঙ্ঘচালক মোহনরাও ভাগবতকে দেখা গিয়েছিল রাষ্ট্রপতি ভবনে। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে দেওয়ালির শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলেন ভাগবত। তার পরে ফের ২০১৭, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে প্রণববাবুর অবসরের মাসখানেক আগে ফের রাইসিনা হিলসে যান আরএসএস প্রধান। মধ্যাহ্নভোজও সারেন। রাজনৈতিক শিবিরে সে বারও জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবন এবং সঙ্ঘ, দু’তরফ থেকেই জানানো হয়, প্রণব-ভাগবত সাক্ষাৎ নিতান্তই সৌজন্যের।
কিন্তু প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এ বার সঙ্ঘের যে অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, তাকে আর সৌজন্যমূলক অংশগ্রহণ বলা যাচ্ছে না। সঙ্ঘ শিক্ষা বর্গের তৃতীয় বর্ষের যে সমাপ্তি সমারোহ নাগপুরে আরএসএস-এর সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়, সেই অনুষ্ঠানেই যোগ দিচ্ছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। সঙ্ঘের প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হচ্ছেন যাঁরা, দেশ-কাল-সমাজ নিয়ে তাঁদের সামনে ভাষণ দেবেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস নেতৃত্বের মতে, প্রণববাবুর এই নাগপুর সফরে বিস্মিত হওয়ার কিছুই নেই। সঙ্ঘের সঙ্গে প্রণবের ঘনিষ্ঠতা গত পাঁচ বছর ধরেই বাড়ছিল। বীরভূমের মিরাটিতে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেতে যে দুর্গোৎসব হয়, সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য প্রণববাবু আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সঙ্ঘ নেতৃত্বকে। ২০১৬ সালে সঙ্ঘের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতির পৈতৃক ভিটের দুর্গোৎসবে সামিল হন বলেও আরএসএস-এর রাজ্য (প্রান্ত) নেতৃত্ব সূত্রে জানা যাচ্ছে। ইন্দিরা জমানায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ক্যাবিনেটে ইন্দিরার সবচেয়ে ভরসার পাত্র ছিলেন। কয়েক দশক কাটিয়ে ইউপিএ-১ এবং ইউপিএ-২ মন্ত্রিসভাতেও সেই গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ ছিল প্রণবের। অবশেষে রাষ্ট্রপতি হওয়া। কিন্তু যখন যে পদেই থাকুন, দুর্গাপুজোর সময়ে বীরভূমের ভিটেয় ফেরা এবং ধুতি-উত্তরীয়ে সেজে চণ্ডীপাঠে অংশ নেওয়ায় ছেদ পড়তে দিতে চাইতেন না প্রণব। ২০১৬ সালের দুর্গাপুজোই ছিল রাষ্ট্রপতি পদে থাকা প্রণবের শেষ দুর্গাপুজো। সে বার মহাষ্টমীতে সঙ্ঘের অন্তত পাঁচ জন প্রতিনিধি প্রণববাবুর বাড়িতে যান বলে জানা গিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণেই তাঁর পৈতৃক ভিটের দুর্গোৎসবে যোগ দিয়েছিলেন সঙ্ঘের প্রতিনিধিরা। খবর আরএসএস সূত্রের। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে দু’জন প্রতিনিধি ছিলেন, বাকিরা রাজ্য ও জেলা স্তরের। সঙ্ঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রণববাবু সঙ্ঘ নেতাদের সঙ্গে পরিজনদের এবং অন্য অতিথি-অভ্যাগতদের আলাপ করিয়ে দেন। তাঁদের মধ্যে প্রণববাবুর এক বাল্যবন্ধুও ছিলেন, যিনি মুসলিম। সঙ্ঘ নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলাপ করিয়ে প্রণববাবু জানান, প্রতি বছরই তাঁর বাড়ির দুর্গোৎসবে তাঁর ওই বাল্যবন্ধু সক্রিয় ভাবে অংশ নেন এবং এটাই বাংলার ছবি। ছোট থেকে কখনও হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ দেখে বড় হননি বলে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন সঙ্ঘের প্রতিনিধিদের, বাংলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে তিনি আক্ষেপও প্রকাশ করেছিলেন। জানা গিয়েছে আরএসএস সূত্রেই। কিন্তু প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো খাঁটি কংগ্রেসি সম্পর্কে কেন আগ্রহী হল সঙ্ঘ? কেনই বা প্রণব আগ্রহী হলেন সঙ্ঘে? আরএসএস-এর এক রাজ্য স্তরের নেতার ব্যাখ্যা, ‘‘প্রণব মুখোপাধ্যায় বুঝতে পারছিলেন যে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি যে রকম, তাতে সঙ্ঘকে দরকার। সঙ্ঘও মনে করতে শুরু করেছিল যে, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।’’ ওই আরএসএস কার্যকর্তার আরও ব্যাখ্যা, ‘‘বিদগ্ধ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বা তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করা সঙ্ঘের কাছে নতুন কিছু নয়। এমনটা আমরা করেই থাকি।’’ প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কবে থেকে বাড়ছিল যোগাযোগ? সঙ্ঘ সূত্রের খবর, ২০১৩ সাল থেকে। অর্থাৎ, প্রণববাবু রাষ্ট্রপতি পদে বসার বছরখানেক পর থেকেই। ২০১৫ সালে মোহন ভাবগত রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার পর সেই যোগসূত্র প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হয় বলে সঙ্ঘ নেতৃত্ব জানাচ্ছে।
কংগ্রেস অত্যন্ত বিব্রত প্রণবের নাগপুর সফর নিয়ে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নাগপুরের আমন্ত্রণ স্বীকার করতেই একাধিক কংগ্রেস নেতা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন। কংগ্রেস মুখপাত্র টম ভড়ক্কন বলেছেন, ‘‘যা জিজ্ঞাসা করার, প্রণব মুখোপাধ্যায়কেই করুন। আমাদের একমাত্র মন্তব্য হল, কোনও মন্তব্য নয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা শুধু বলতে পারি যে, আমাদের এবং আরএসএস-এর মতাদর্শে বিস্তর ফারাক রয়েছে।’’ প্রতিক্রিয়া মিলেছে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের পুত্র তথা গাঁধী পরিবার ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন সাংসদ সন্দীপ দীক্ষিতের কাছ থেকেও। সন্দীপও সরাসরি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেননি। তবে তিনি বলেছেন, ‘‘প্রণব মুখোপাধ্যায় বিভিন্ন সভায় গিয়ে বার বার আরএসএস-কে আক্রমণ করেছেন। আরএসএস সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, বিভাজনে বিশ্বাস করে, সঙ্ঘের লোকজনের কোনও চরিত্র নেই— এমন কথা তিনি বহু বার বলেছেন। আজ নিজেদের সদর দফতরে ভাষণ দেওয়ার জন্য প্রণববাবুকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আরএসএস স্বীকার করে নিচ্ছে যে, প্রণববাবু ওঁদের সম্পর্কে যে সব কথা বলতেন, সেগুলো ওঁরাও বিশ্বাস করেন।’’ আরএসএস মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এ অবশ্য লেখা হয়েছে, এই প্রথম বার সঙ্ঘের বাইরের কোনও প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব সঙ্ঘ শিক্ষা বর্গের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, এমন নয়। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘‘১৯৩৪ সালে মহাত্মা গাঁধী ওয়ার্ধায় সঙ্ঘের একটি শিবিরে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন প্রথম সরসঙ্ঘচালক কে বি হেডগেওয়ারের সঙ্গে।’’ আপাতত সঙ্ঘের তুলে ধরা এই তথ্যই আশার সলতে হতে পারে কংগ্রেসের জন্য। প্রণব মুখোপাধ্যায় সঙ্ঘের আমন্ত্রণ স্বীকার করার পরে যে অস্বস্তিতে কংগ্রেস পড়েছে, তার থেকে কংগ্রেসকে কিছুটা রেহাই দিতে পারে এই তথ্য।
সাংসদ গৌরব গগৈকে বাংলার দায়িত্ব

সাংসদ গৌরব গগৈকে বাংলার দায়িত্ব

অপসৃত জোশীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রদেশ কংগ্রেসের

কলকাতা : দায়িত্বের হাতবদল। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসকে দেখভালের ভার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল সি পি জোশীকে। তাঁর জায়গায় এলেন গৌরব গগৈ। এআইসিসির তরফে রবিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন সাধারণ সম্পাদক অশৌক গহলৌত। পশ্চিমবঙ্গ এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সাংগঠনিক পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে জোশীকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জনানো হয়েছে। আর বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার মুহূর্ত থেকেই পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের পুত্র গৌরব। কয়েক মাস আগেই শেষ হয়েছে কংগ্রেসের সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়া। এ বারের সম্মেলনে আর এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হননি রাজস্থানের নেতা তথা দেশের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী সি পি জোশী। তখনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল জোশীকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরানো হতে পারে।
অসমের কলিয়াবর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ গৌরব গগৈ হলেন রাহুল ঘনিষ্ঠ তরুণ ব্রিগেডের অন্যতম সদস্য। সর্বভারতীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে কংগ্রেসের কিছু সাংগঠনিক কাজ দেখভাল করার দায়িত্ব গৌরব আগেই পেয়েছিলেন। এ বার তাঁকে বাংলা ও আন্দামানের পর্যবেক্ষক করা হল।দায়িত্বের হাতবদলে বেশ খুশি প্রদেশ কংগ্রেস। সি পি জোশী সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ্যেই জানাচ্ছেন একাধিক নেতা। সদ্য প্রাক্তন পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে মন্তব্যে করতে গিয়ে একটুও রাখঢাক করছেন না অনেকেই। ওমপ্রকাশ মিশ্র বললেন, ‘‘প্রায় পাঁচ বছর জোশী পশ্চিবঙ্গের দায়িত্বে ছিলেন। হাতে গুণে বলে দেওয়া যায়, ক’দিন তিনি বাংলায় এসেছেন। একদমই সময় দিতেন না। ওঁকে নিয়ে আমরা খুব অস্বস্তিতেই ছিলাম। পর্যবেক্ষক বদল হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।’’ আর এক কংগ্রেস নেতা ঋজু ঘোষালের কথায়, ‘‘গৌরব গগৈ তরুণ নেতা, উৎসাহ-উদ্দীপনা অনেক বেশি। বাংলার কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগও রয়েছে। ফলে এআইসিসি-র এই সিদ্ধান্তে উপকারই হবে।’’
মহার্ঘ জ্বালানি তেল, মোদিকে বিঁধলেন মমতা

মহার্ঘ জ্বালানি তেল, মোদিকে বিঁধলেন মমতা

কলকাতা : আর একদিন পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক মঞ্চে উঠবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগেই বৃহস্পতিবার বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শান্তিনিকেতনে পৌঁছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মোদিকে বিঁধলেন মমতা। সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই নিয়ে আক্রমণ করে মমতা বলেন, সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই পেট্রোল–ডিজেলের দাম অবিলম্বে কমানো উচিত কেন্দ্রের। এর প্রতিবাদে শুক্রবার থেকেই যে তৃণমূল পথে নামছে তা জানিয়েছেন তিনি। কালোটাকা উদ্ধারের নামে কেন্দ্র যে কটি পদক্ষেপ করেছে সবগুলি ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। জিএসটি, নোটবাতিল সহ কেন্দ্রের একাধিক সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের উপর শুধু বোঝা বেড়েছে। মোদির প্রতিশ্রুতির মত কারোর ব্যাঙ্কে কোনও টাকাই পড়েনি। মোদি শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়ে গিয়েছেন বলে এদিন অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিক বৈঠকে শান্তিনিকেতন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেশিকোত্তম সম্মান না দেওয়ার ঘটনারও নিন্দা করেছেন তিনি। কেন সাত জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দেশিকোত্তম দেওয়া হচ্ছে না এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সাত বিশিষ্টদের মধ্যে নাম ছিল অমিতাভ বচ্চন, দ্বিজেন ব্যানার্জি, যোগেন চৌধুরীরও। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যোগ দেবেন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। পরের দিন শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা। শনিবার সন্ধেয় কলকাতায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর একটি সৌজন্যমূলক বৈঠক আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দিনের গণনা চলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের জয়জয়কার

পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দিনের গণনা চলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের জয়জয়কার

জেলা পরিষদ (ভোট হয়েছে ৬২১ আসনে)
তৃণমূলবিজেপিবামকংগ্রেসঅন্যান্য
৫৮০২৩


কলকাতা : শুক্রবার দ্বিতীয় দিনেও রাজ্যের নানা জায়গায় চলছে পঞ্চায়েত ভোটের গণনা। ইতিমধ্যেই ৬৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৮৩টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং ১৮টি জেলা পরিষদ দখল করেছে তৃণমূল। ভোটের এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত হওয়া ফল অনুযায়ী সবকটি জেলা পরিষদ দখল করছে তৃণমূল। হাওড়া, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ ঘাসফুলের দখলে। তবে অল্প লড়াই হয়েছে মালদা এবং পুরুলিয়ায়। উত্তরবঙ্গও তৃণমূলের দখলে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে একচ্ছত্র আধিপত্য শাসকদলের। 
 উত্তরবঙ্গ থেকে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। পাশাপাশি জমি হারিয়ে আরও সঙ্কটে বামেরা। কোচবিহারে গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ আসন তৃণমূলের দখলে। ১৯৬৬টির মধ্যে ভোট হয়েছে ১২৯৫টি আসনে। তৃণমূলের দখলে ১০৪৮টি, বিজেপি ১১৫টি, সিপিএম ৪টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ৮টি, কংগ্রেস ৭টি এবং নির্দল ১১১টি আসনে জয়ী। দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু। কোচবিহার জেলা পরিষদে ৩২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৩১টি আসনে জয়ী, দিনহাটার একটি আসনে জয়ী নির্দল প্রার্থী। জলপাইগুড়ি জেলাতেও ঘাসফুলের দাপট। ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে তৃণমূলের দখলে ৬৯টি, বিজেপি পেয়েছে ৫টি ও বামেরা একটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে। ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু। জলপাইগুড়ির ১৯টি জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে ১৭টি তৃণমূলের দখলে। 
আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের ১৮টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে জয়ী তৃণমূল। কুমারগ্রামের ১টি আসন দখল করেছে বিজেপি। পঞ্চায়েত সমিতির ১৮৮টি আসনের মধ্যে ১৮১টি আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূল ১২৩, বিজেপি ৫৫, বামেরা ২ এবং কংগ্রেস ১টি আসনে জয় পেয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার ৬৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৩৬ টি তৃণমূল, ৮টি বিজেপি, বামেদের ১টি এবং কংগ্রেস ১টি আসন দখল করেছে। ত্রিশঙ্কু ১৬টি আসন। তরাই–ডুয়ার্সের চা বাগান বলয়ে খাতা খুলেছে বিজেপি।


পঞ্চায়েতে বিপুল জয়ের পথে তৃণমূল

পঞ্চায়েতে বিপুল জয়ের পথে তৃণমূল

কলকাতা : পঞ্চায়েত নির্বাচনের গণনা শুরু হতে দেরি হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলার সবুজ রূপ দেখা গেল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে গণনা শুরুর একঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ জেলাতেই তৃণমূল বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে শুরু করে‌ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিশ্বাস, দিনের শেষে জয়ের হাসি তারাই হাসবে। গণনা চলাকালীন এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগণায় গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এরপরই দ্বিতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগণা রয়েছে। এখানে ৮১টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসন পেয়েছে তৃণমূল। নদীয়া এবং দক্ষিণ দিনাজপুরেও তৃণমূল এখনও পর্যন্ত ৭০ এবং ৭৩টি আসন পেয়ে জয়ের পথে এগোচ্ছে। 
কোচবিহারেও ৬১টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে ব্যাপক দুরত্ব বজায় রেখে দিয়েছে তৃণমূল। বীরভূমে গণনার কিছুক্ষণের মধ্যে তৃণমূল ২১ টি আসন এগিয়ে যায় বলে জানা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি, পূর্ব–পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, মালদা, মূর্শিদাবাদ, আলিপুরদুয়ার, বীরভূম, হাওড়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম সহ সব জেলাতেই গণনার কিছুক্ষণ পরই বোঝা যায় যে তৃণমূলই জয়ী হবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে। তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপি–সিপিএম–কংগ্রেস বা নির্দল এদের আসন সংখ্যা তৃণমূলের তুলনায় অনেকটাই কম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশানুযায়ী যেহেতু গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিজয় মিছিল করা যাবে না, তাই শাসক দলের সমর্থকরা তাঁদের খুশি আপাতত একে–অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। গণনা শেষ হওয়ার পরই জেলায় জেলায় উড়বে সবুজ আবির। 
এদিকে, পুড্ডি, সারেঙ্গা বিক্রমপুর, সিমলাপাল বিক্রমপুর, কেঞ্জাকুড়া, মানকালী গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে বিজেপি শিবির। ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছে ১৩টি আসনে। বিজেপি ও সিপিএম প্রত্যেকে জিতেছে ৩ টি করে আসনে। নির্দলের ঝুলিতে ২টি আসন। বলগোনা গ্রাম পঞ্চায়েত ১৭টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী ১৪ টি আসনে, ৩টি আসনে জয়ী নির্দল। তবে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে নিত্যানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮টি আসনের ১৮টিতেই জয়লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।পাশাপাশি, বড়বেলুন ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছে ৮টি আসনে। নির্দল প্রার্থী জিতেছেন একটি আসনে । বড়বেলুন ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জয়ী তৃণমূল। একটি আসনে জয়ী সিপিএম। হলদিয়া ব্লকের দেউলপোতা গ্রামপঞ্চায়েতের ২ নং বুথে জয়ী নির্দল প্রার্থী বাতাসী রাউত।