Showing posts with label Bangladesh. Show all posts
Showing posts with label Bangladesh. Show all posts
সম্প্রীতির উজ্জ্বল নজির : কামাখ্যা ধামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ

সম্প্রীতির উজ্জ্বল নজির : কামাখ্যা ধামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ


অমল গুপ্ত, গুয়াহাটী : 
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহঃ আব্দুল হামিদ সর্ব প্রথম অসম সফরে এসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল নজির গড়লেন। দেশের তীর্থ চুড়ামণি বলে খ্যাত গুয়াহাটী কামাখ্যাধামে স-পত্নীক গিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। কামাখ্যাধামের পাণ্ডারা ফুলের তােড়া উপহার দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনে সহায়তা করা প্রতিবেশী দেশের রাজ্য অসম এবং মেঘালয়ের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি বিশেষ বিমানে ঢাকা থেকে গুয়াহাটী আসেন, তার সঙ্গে প্রায় ৭০ জনের এক বিশাল প্রতিনিধি দলও আসেন। 
গুয়াহাটী আন্তঃর্জাতিক লােকপ্রীয় গােপিনাথ বরদলৈ বিমানবন্দরে অসমের রাজ্যপাল জগদীশ মুখী, পুৰ্তমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য, রেশম ও বস্ত্র উন্নয়ন মন্ত্রী রঞ্জিত দত্ত, মুখ্য সচিব টি ওয়াই দাস অসমের পরম্পরাগত গামােছা এবং ফুলের তােড়া দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোেয়াল কোহিমাতেনাগালেণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর শপত গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে পারেন নি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিব্রহ্মপুত্র নদের নৈসর্গিক মনােরম পরিবেশও উপভােগ করেন। সম্প্রতি গুয়াহাটীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বিনিয়ােগ সন্মেলনে বাংলাদেশের সঙ্গে অসমের যােগাযােগব্যবস্থা উন্নয়নসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। সেই সমঝােতা চুক্তির প্রতিটি দফা ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়াল এবং রাজ্যপাল জগদীশ মুখী রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে বৈঠকে আলােচনা করবেন বলে গুয়াহাটীস্থিতি বাংলাদেশ হাই কমিশন কার্যালয়ের সহকারী হাই কমিশনার কাজী মুস্তাসির মুরশেদ জানিয়েছেন। 


গুয়াহাটীর এক পঞ্চ তারকা হােটেলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ভােজসভায় রাষ্ট্রপতি মহঃ আব্দুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি মহঃ আব্দুল হামিদ মেঘালয় থেকে ফিরে নয়া দিল্লী যাবেন। সেখানে সৌরশক্তি সম্পর্কীয় এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যােগদান করবেন। বাংলাদেশের আদি বাসিন্দা বিপ্লব কুমার দেব ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পদে বসবেন বলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেখ হাসিনা বিপ্লব কুমার দেবের সঙ্গে টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হামিদও উচ্ছাস প্রকাশ করে আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে। অসম বিধানসভার বিরােধী দলপতি দেবব্রত শইকিয়া মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়ালকে এক পত্র দিয়ে অসমবাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশসহ জটিল সমস্যাগুলি নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলােচনার দাবী জানান। 
আসুর উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্যও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বন্দী বিনিময় করার লক্ষ্যে প্রত্যার্পণ চুক্তি নিয়ে আলােচনা করার দাবী জানিয়েছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি অবশ্য জানিয়েছেন প্রত্যার্পণ নিয়ে এই সফরে আলােচনা করার সুযােগ নেই। বাংলাদেশের গুয়াহাটীস্থিত হাই কমিশন কার্যালয়ের সহকারী হাই কমিশনার কাজী মুস্তাসির মুরশেদ অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পগুলিতে বন্দী বাংলাদেশীদের খোঁজ খবর নেওয়ার পর এই প্রতিবেদকে জানিয়েছিলেন, প্রকৃত বাংলাদেশী যাদের নির্দিষ্ট ঠিকানা ও নথি-পত্র বাংলাদেশে আছে, তা প্রমাণ পেলে বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত বাংলাদেশীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিবেচনা করতে পারে।
ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে নেবে ঢাকা : কাজী মুস্তাসির মুর্শেদ

ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে নেবে ঢাকা : কাজী মুস্তাসির মুর্শেদ


গুয়াহাটি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্ৰ মোদী অসমে নির্বাচনী প্রচার অভিযানে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের ডিটেশন ক্যাম্পগুলি গুড়িয়ে দেবেন এবং ডি ভোটার বলে কিছু থাকবে না। সেই প্রতিশ্রুতি কবেই ব্ৰহ্মপুত্রর জলে ভেসে গেছে। ডিটেনশন ক্যাম্পের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে রাজ্যে ছয়টি ডিটেনশন ক্যাম্প আছে। প্রায় ৯ শো বন্দী। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষরা ডিটেনশন ক্যাম্পে বিনা অপরাধে জেল খাটছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও প্রত্যার্পণ চুক্তি নেই। বছরের পর বছর ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন হতভাগ্য সংখ্যালঘু মানুষগুলো। বাংলাদেশ সরকার অসমের বিভিন্ন জেলে বন্দী সংখ্যালঘু মানুষগুলি খোঁজ খবর শুরু করেছে। 
অসমের গুয়াহাটিস্থিত বাংলাদেশের সহকারি হাই কমিশনার কাজী মুস্তাসির মুর্শেদ ইতিমধ্যে তেজপুর জেল ঘুরে এসেছেন। গত ৪ জানুয়ারি গোয়ালপারা এবং ৯ জানুয়ারি কোকরাঝার জেল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে এই প্রতিবেদককে জানান, গোয়ালপারা জেলে ৫২ জন সংখ্যালঘু মানুষের সন্ধান পাওয়া গেছে। গোয়ালপারা জেলে বন্দী ৪০ জনই বাংলাদেশের আদি বাসিন্দা। তারা বাংলাদেশের নির্দিষ্ট ঠিকানার কথা জানিয়েছে। সঙ্গে নথিপত্র না থাকায় তাদেরকে অসমের সীমান্ত পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু তাদের শাস্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তাদের সম্পর্কে খোঁজ খবর করে নথি-পত্রগুলি বাংলাদেশের গৃহ মন্ত্রনালয়ের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত পেলে এই মানুষগুলিকে বাংলাদেশে পাঠানাের ব্যবস্থা হবে। 


সহকারী হাই কমিশনার মুর্শেদ বলেন— ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যার্পণ চুক্তি সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী মানুষগুলিকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। এর সঙ্গে অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর কোনও সম্পর্ক নেই। সহকারী হাই কমিশনার বলেন— গুয়াহাটিতে প্রথম তাদের সহকারী হাই কমিশনার অফিস স্থাপন করার সময় আমরা বুঝতেই পারেনি, অসমের মানুষ বাংলাদেশ সম্পর্কে এতটাই আগ্রহী৷ প্রতিদিন শাখানি মানুষ তাদের কার্যালয় এসে বাংলাদেশ সম্পর্কে খোঁজ খবর করছে। গত ৯ মাসে ১০ হাজার মানুষকে ভিসা প্রদান করা হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছে। তাদের কার্যালয় গুয়াহাটিতে স্থাপন করার পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে অসমের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। 
ইতিমধ্যে গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল এসেছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের পূর্তি উপলক্ষ্যে গুয়াহাটিতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গিয়েছিল। অসমের বর্তমান এন আর সি উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ভারতের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কোনওভাবেই নাক গলাবে না বা হস্তক্ষেপ করবে না। তারা শুধু পর্যবেক্ষন করে যাচ্ছে।
ডিটেনশন ক্যাম্প না কি  নো ম্যানস ল্যান্ড : কোথায় হবে অবৈধ নাগরিকদের জায়গা

ডিটেনশন ক্যাম্প না কি নো ম্যানস ল্যান্ড : কোথায় হবে অবৈধ নাগরিকদের জায়গা

গুয়াহাটি : জাতীয় নাগরিকপঞ্জী চূড়ান্ত খসড়া তালিকার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের আগেই তার প্রথম পৰ্য্যায়ের তালিকা প্রকাশ পাবে। তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার আশংকা প্ৰকাশ করেছে, এন আর সি তালিকা প্রকাশের অব্যবহিতর পরই রাজ্যে আইন-শৃংখলার পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। সংসদে রাজ্যের রেলওয়ে মন্ত্রী রাজেন গোহাঁই এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সেই আশংকায় প্রকাশ করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীশ মুখী সেনা বাহিনীর অফিসারদের সঙ্গে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। কেন্দ্রীয় গৃহসচিব রাজীব গাওয়ার শুক্ৰবার অসম সফরে আসছেন। নাগরিকপঞ্জী নবায়নের কাজ ছাড়াও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। তিনি  রাজের পুলিশ প্রধান মুকেশ সহায় এবং সেনা বাহিনীর পদস্থ অফিসার এবং মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। 
বাঙালি হিন্দুদের স্বার্থে কেন্দ্রের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করে আজ অগপর পক্ষ থেকে এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মহন্ত এই প্রস্তাবিত বিলের চরম বিরোধীতা করে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের ইঙ্গিত দিয়েছেন। 
রাজ্যের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অভিযোগ করেছেন, নাগরিকত্ব বিল পাশ হলে প্রায় ২০ লক্ষ বাঙালি হিন্দু রাজ্যের অসমীয়া ভাষা-সংস্কৃতিকে বিপন্ন করে তুলবে। সেই বুদ্ধিজীবী বরাক উপত্যকার প্রতি নেতিবাচক মন্তব্য করে বলেছেন, সেখানে সবাই বাংলাভাষী। তার ফলে অসমের ভাষা-সংস্কৃতি সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে। 
এদিকে দিল্লী যাওয়ার পথে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কবিন্দ্র পুরকায়স্থ বলেছেন, নতুন করে কোনও বাংলাদেশী আর বাংলাদেশ থেকে আসছে না। যারা বর্তমানে আছে, তাদেরকেই নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি ৰঞ্জিৎ দাসের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল দিল্লীতে গিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করার সপক্ষে ওকালতি করবেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথের সঙ্গে দেখা করবেন। সেই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কবিন্দ্র পুরকায়স্থ, বিধায়ক শিলাদিত্য দেব প্রমুখ। 
নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতির এক মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন, অসম চুক্তির ৬নং ধারা মেনে ১৯৭১ সালের ২৪মার্চ নয়, ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী নবায়নের কাজ চলছে। তিনি বরাক উপত্যকার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে একই নথি পত্র বারবার ভেরিফিকেশন করে নাগরিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। তার আশংকা— সারা রাজ্যে হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ বাংলাভাষী মানুষের নাম নাগরিকপঞ্জীতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। রাজ্যে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। 
জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর পক্ষ থেকে অভয় দিয়ে বলা হয়েছে, প্রথম তালিকায় নাম না থাকলে, দ্বিতীয় তালিকায় নাম থাকবে। তা যদি না থাকে তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশী ট্রাইবুন্যালের দ্বারস্থ হতে হবে। কিন্তু জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর কর্তৃপক্ষ এ কথা বলেন নি।ট্রাইবুনাল যাদের নথি পত্র অবৈধ বলে বিবেচিত হবে তাদের ভাগ্যে কি ঘটবে? রাজ্যের জাতীয়তাবাদী মহলের ব্যাখ্যা, যাদের নথি পত্র বৈধ হবে না, এই রকম লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু মানুষের ভোটদানের মতো রাজনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে শুধুমাত্র কাজের অধিকার স্বীকার করে নিয়ে তাদেরকে অস্থায়ীভাবে এদেশে থাকার ভিসা মঞ্জর করা হবে। 
প্রসঙ্গত দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী শিলচরের একজনসভায় বলে গিয়েছিলেন, অসমের জটিল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একজনকেও বিতাড়ণ করা সম্ভব নয়। যারা আছে, তাদের কে সাময়িকভাবে ওয়ার্ক পামিট দেওয়া হােক। রাজ্যে কাজ করবে, শ্রম দেবে কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। দিশপুর-দিল্লী যাওয়ার স্বপ্ন অধরায় থেকে যাবে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে বলেই দিয়েছে, অসমে একজনও বাংলাদেশী নেই। তাই বাংলাদেশীদের গ্রহণ করার প্রশ্নই উঠছে না। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধ নাগরিকদের জায়গা কী সারা জীবন ডিটেনশন ক্যাম্পই হবে? না নো ম্যানস ল্যান্ডে গিয়ে দেশহীন, নিরাপত্তাহীন পশুর মতো জীবন যাপন করতে হবে ?
বাংলাদেশের বিজয় দিবসে ‘গান পাগল গােষ্ঠী’র অনন্যা সন্ধ্যা উপহার

বাংলাদেশের বিজয় দিবসে ‘গান পাগল গােষ্ঠী’র অনন্যা সন্ধ্যা উপহার



অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : 
“বাংলাদেশী”— এক উচ্ছিষ্ট, অদরকারী শব্দ। যার স্থান ডাষ্টবিনে। অসমের উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তির একাংশ বাংলাদেশী সম্পর্কে এমনই ধারণা পোষণ করেন। সেই বাংলাদেশীদের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সমাজ শনিবার বাংলাদেশের বিজয় দিবসে যে ধরণের উচ্চমানের সাংস্কৃতি সন্ধ্যা উপহার দিল, যা গুয়াহাটিবাসীর সারা জীবনের স্মরণে ও মননে থাকবে। 
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জীবন-মরণ সংগ্রাম করে লক্ষ লক্ষ শহীদের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছিল। সেই দিবসের স্মরণে গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এই দিনটিকে জাতীয় বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করে আসছে। এই দিবস উপলক্ষে ঢাকার প্রথম সারির ‘গান পাগল সাংস্কৃতিক গােষ্ঠী” নদী মাতৃক বাংলাদেশের মনােরম প্রকৃতির ভাটিয়ালি-সারি প্রভৃতি সুরের লোকোসঙ্গীতের ঢালি সাজিয়ে গুয়াহাটিবাসীকে মনােমুগ্ধ করে গেলেন। 
মহম্মদ সোহেবের নেতৃত্বে শিউলী ভট্টাচার্য, সুমি, ইভান, সানি প্রমুখ শিল্পীরা একটির পর একটি বাংলা-অসমীয়া সঙ্গীত, লোকো নৃত্য পরিবেশন করলেন। অধ্যাপক, ডক্টরেট, আইনজীবী, গবেষকদের নিয়ে গঠিত ‘গান পাগল গোষ্ঠী” মাতিয়ে দিয়ে গেলেন কলাক্ষেত্রের মাধবদেব প্রেক্ষাগৃহ। সুর-লয়-তালের মুৰ্চ্ছনায় বাংলা আর বাঙালির আবেগ-কৃষ্টি-সংস্কৃতি সব একাকার হয়ে গেল। রবীন্দ্ৰ নাথ বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংগ। তাই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় অবধারিতভাবে বিশ্বকবির উপস্থিতি ছিল। বিশ্বকবির রচনা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত— ‘সোণার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি....’। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত যখন যন্ত্র সঙ্গীতের মাধ্যমে সুর তুলল, তখন প্রেক্ষাগৃহ পুরো দাঁড়িয়ে উঠে জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সম্পৰ্কে্র গভীরতায় যা সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। 
গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অসম তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভ্ৰাতৃত্বের সেতু গড়ার লক্ষ্যে গুয়াহাটি মহানগরে সহকারী এক কার্যালয় স্থাপন করেছে। সহকারী হাইকমিশনার কাজী মুস্তাশির মুর্শেদ অতিথি অভ্যাগতদের স্বাগত জানিয়ে অসমের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, গুয়াহাটিতে সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয় স্থাপনের পর থেকে এই অঞ্চলের সঙ্গে সাংস্কৃতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক সূদৃঢ় হয়েছে। রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী কেশব মহন্ত বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ জ্ঞাপনে করে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী হলে অসমের উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। এই দিবস উপলক্ষে অসম পৰ্যটন উন্নয়ন নিগেমর ম্যানেজিং ডিরেক্টর কৌসর জে হিলালি, স্বাধীনতা সংগ্ৰামী আহমেদ হুসেইন এবং ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ, অসম চ্যাপিটারের সভাপতি সৌমেন ভারতীয়াকে সংবৰ্দ্ধনা জানানো হয়। রাজ্যের বিশিষ্ট আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী, সহ রাজ্যের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করেন৷

বিতর্কের মধ্যেই দীর্ঘ ছুটি নিয়ে দেশ ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি

বিতর্কের মধ্যেই দীর্ঘ ছুটি নিয়ে দেশ ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি

শুক্রবার রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এস কে সিন্‌হা। ছুটি নিয়ে বিমানবন্দরের পথে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, “প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।” বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতির চাকরির মেয়াদ রয়েছে আরও সাড়ে তিন মাস। বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে বিচারপতি সিন্‌হার দেওয়া চিঠির উল্লেখ করে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ‌আমেরিকা এবং ব্রিটেন— এই চারটি দেশে যেতে চান। 
আগামিকাল ১৩ অক্টোবর দেশ ত্যাগ করতে চান এবং ১০ নভেম্বর দেশে ফিরে আসবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।” বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, বর্ধিত ছুটিতে প্রধান বিচারপতির বিদেশে অবস্থানের সময়ে, অর্থাৎ ২ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত, অথবা তিনি দায়িত্বে না ফেরা পর্যন্ত বিচারপতি মহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির কার্যভার সামলাবেন। চলতি বছর অগস্ট মাসে বাংলাদেশের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকেই সরকারে থাকা আওয়ামি লিগের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েন বিচারপতি এস কে সিনহা। বাংলাদেশের বিচারপতিদের পদ থেকে অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফেরাতে আনা হয়েছিল সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীতে। সেই সংশোধনী বাতিল করে জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনকালে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনে সুপ্রিম কোর্ট। 
সাত বিচারপতির ঐকমত্যের ৭৯৯ পৃষ্ঠার এই রায়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নিজের পর্যবেক্ষণের অংশে দেশের বিভিন্ন বিষয়ের সমালোচনা করেন। আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের বিভিন্ন স্তর থেকে প্রধান বিচারপতির তীব্র সমালোচনা করা হয়। পর্যবেক্ষণে বঙ্গবন্ধুকে ‘খাটো করা হয়েছে’ অভিযোগে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও এসেছিল। তখন বিএনপি এ রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে স্বাগত জানিয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রধান বিচারপতির বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামি লিগের আইন সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, “প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন। সেখানে তিনি অসুস্থতার কথা বলেছেন। কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “প্রধান বিচারপতি আইসিডিডিআরবিতে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। এর থেকেই বোঝা যায় তিনি অসুস্থ।
 তিনি তাঁর লিখিত আবেদনেও বলেছেন, তিনি অসুস্থ। তাঁর ছুটি চাওয়ার পেছনে আওয়ামি লিগ বা সরকারের কোনও চাপ ছিল না।” বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত জানাতে আজ, শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা জানিয়েছে বিএনপি।