অমল গুপ্ত, গুয়াহাটী :
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহঃ আব্দুল হামিদ সর্ব প্রথম অসম সফরে এসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল নজির গড়লেন। দেশের তীর্থ চুড়ামণি বলে খ্যাত গুয়াহাটী কামাখ্যাধামে স-পত্নীক গিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। কামাখ্যাধামের পাণ্ডারা ফুলের তােড়া উপহার দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনে সহায়তা করা প্রতিবেশী দেশের রাজ্য অসম এবং মেঘালয়ের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি বিশেষ বিমানে ঢাকা থেকে গুয়াহাটী আসেন, তার সঙ্গে প্রায় ৭০ জনের এক বিশাল প্রতিনিধি দলও আসেন।
গুয়াহাটী আন্তঃর্জাতিক লােকপ্রীয় গােপিনাথ বরদলৈ বিমানবন্দরে অসমের রাজ্যপাল জগদীশ মুখী, পুৰ্তমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য, রেশম ও বস্ত্র উন্নয়ন মন্ত্রী রঞ্জিত দত্ত, মুখ্য সচিব টি ওয়াই দাস অসমের পরম্পরাগত গামােছা এবং ফুলের তােড়া দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোেয়াল কোহিমাতেনাগালেণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর শপত গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে পারেন নি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিব্রহ্মপুত্র নদের নৈসর্গিক মনােরম পরিবেশও উপভােগ করেন। সম্প্রতি গুয়াহাটীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বিনিয়ােগ সন্মেলনে বাংলাদেশের সঙ্গে অসমের যােগাযােগব্যবস্থা উন্নয়নসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। সেই সমঝােতা চুক্তির প্রতিটি দফা ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়াল এবং রাজ্যপাল জগদীশ মুখী রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে বৈঠকে আলােচনা করবেন বলে গুয়াহাটীস্থিতি বাংলাদেশ হাই কমিশন কার্যালয়ের সহকারী হাই কমিশনার কাজী মুস্তাসির মুরশেদ জানিয়েছেন।
গুয়াহাটীর এক পঞ্চ তারকা হােটেলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ভােজসভায় রাষ্ট্রপতি মহঃ আব্দুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি মহঃ আব্দুল হামিদ মেঘালয় থেকে ফিরে নয়া দিল্লী যাবেন। সেখানে সৌরশক্তি সম্পর্কীয় এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যােগদান করবেন। বাংলাদেশের আদি বাসিন্দা বিপ্লব কুমার দেব ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পদে বসবেন বলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেখ হাসিনা বিপ্লব কুমার দেবের সঙ্গে টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হামিদও উচ্ছাস প্রকাশ করে আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে। অসম বিধানসভার বিরােধী দলপতি দেবব্রত শইকিয়া মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়ালকে এক পত্র দিয়ে অসমবাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশসহ জটিল সমস্যাগুলি নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলােচনার দাবী জানান।
আসুর উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্যও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বন্দী বিনিময় করার লক্ষ্যে প্রত্যার্পণ চুক্তি নিয়ে আলােচনা করার দাবী জানিয়েছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি অবশ্য জানিয়েছেন প্রত্যার্পণ নিয়ে এই সফরে আলােচনা করার সুযােগ নেই। বাংলাদেশের গুয়াহাটীস্থিত হাই কমিশন কার্যালয়ের সহকারী হাই কমিশনার কাজী মুস্তাসির মুরশেদ অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পগুলিতে বন্দী বাংলাদেশীদের খোঁজ খবর নেওয়ার পর এই প্রতিবেদকে জানিয়েছিলেন, প্রকৃত বাংলাদেশী যাদের নির্দিষ্ট ঠিকানা ও নথি-পত্র বাংলাদেশে আছে, তা প্রমাণ পেলে বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত বাংলাদেশীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিবেচনা করতে পারে।


