সংখ্যালঘু বিরােধী নির্দেশের প্রতিবাদ কংগ্রেসের : ২৭ মে বৈঠক পরিষদীয় দলের
গুয়াহাটি : সারা দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য অসম, যেখানে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এন আর সি) র নবায়নের কাজ চলছে। রাজ্যের ৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩১ ডিচেম্বর ১ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষের নাম প্রথম খসড়া তালিকায় প্রকাশ পেয়েছে। রেজিষ্টার জেনারেল অফ ইণ্ডিয়ার গাইডলাইন অনুযায়ী এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মর্মে রাজ্যে এন আরসির কাজ চলছে। বিরােধী দল কংগ্রেস, আমসু, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি, বরাক উপত্যকার বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সন্মেলন প্রভৃতি দল সংগঠন অভিযােগ করেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে উপেক্ষা করে গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিভিন্ন সময়ের রায়কে উপজীব্য করে এনআরসির সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা নানা বিজ্ঞপ্তি জারি করছেন, যার ফলে আশঙ্খ তৈরি হয়েছে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক লক্ষ লক্ষ হিন্দু-মুসলিম সংখ্যালঘু মানুষের নাম এনআরসির তালিকা থেকে বাদ পড়বে। যা প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষে দাঁড়াবে। সেই রাষ্ট্রহীন লােকগুলাের ভাগ্যে কি ঘটবে। তা প্রায় অনিশ্চিত।
কংগ্রেসেব পরিষদীয় দলপতি দেবব্রত শইকিয়া, উপদলপতি কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, এবং বিধায়ক আব্দুল খালেক আজ এক বৈঠকে এনআরসি কতৃপক্ষের বিভিন্ন সংখ্যালঘু বিরােধী বিজ্ঞপ্তির সমালােচনা করে। আগামীর ২৭ মে প্রদেশ কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের এক বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডি ভােটার, এবং যাদের মামলা বিদেশী ট্রাইব্যুনালগুলিতে ঝুলছে তাদের নামতাে এন আরসি তালিকায় উঠবেই না তাদের সন্তান-সন্ততি এবং আত্মীয় স্বজনদের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়বে।
গত ১ এবং ২ মে এনআরসি সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা দু দুটি নির্দেশিকা জারি করেছেন, যা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু মানুষেব নাম বাদ পরে যাবে। যে কোন ও নথিকে ‘দুর্বল বলে খারিজ করে দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। বিধায়ক কমলাক্ষদে এবং আব্দুল খালেক আজ অভিযােগ করেন, প্রধানত সংখ্যালঘু অধূষিতজেলা গুলিতেই নথি পত্র পরীক্ষার নামে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। গাওঁবুঢ়াদের সার্টিফিকেট, অবিবাহিত ও পুরুষদের জমা দেওয়া পঞ্চায়েত নথি, শিশুর টিকাকরণের প্রমাণ পত্র, রেশন কার্ড, বেসরকারি স্কুল কলেজের সার্টিফিকেট, জন্মের এক বছর পর সংগ্রহ করা প্রমাণ পত্র এমনকি শৰণার্থীদের প্রমাণ পত্র ও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। অধিকাংশ নথিগুলকে দুর্বল নথি বলে খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। কংগ্রেস নেতারা এই ভয়ানক পরিস্থিতির কথা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছে।
0 comments: