Showing posts with label State. Show all posts
Showing posts with label State. Show all posts
সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত পাঁচজন মহিলাকে সম্মানিত করল প্রজেক্সেল ফাউন্ডেশন

সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত পাঁচজন মহিলাকে সম্মানিত করল প্রজেক্সেল ফাউন্ডেশন

গুয়াহাটি : প্রতি বছর ৮ই মার্চ তারিখে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের এক -এক প্রান্তে নারী দিবসের উদযাপনে প্রধান লক্ষ্য একেক রকম হয়। কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদযাপনের মুখ্য বিষয় হয়।আর কোথাও মহিলাদের আর্থিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠাতা বেশি গুরুত্ব পায় ।বর্তমান সময়ে সারা পৃথিবীতে মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে যদিও এখনো বেশিরভাগ দেশে সমাজব্যবস্থা পুরুষতান্ত্রিক। যেখানে রানী স্বাধীনতা একবারই অবহেলিত।এই অবস্থায় নারী দিবসের দিনগুলি নারীর অধিকার রক্ষার একটা প্রতীক হিসেবে ভাবা হয়। শুধু এই দিনটি উদযাপনের মধ্য দিয়েই নয় সমাজ ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে তবেই নারী অধিকার কে নিশ্চিত করা হয়তো সম্ভব।


আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রজেক্সেল ফাউন্ডেশন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রবিবার সাউথ পয়েন্ট স্কুলের প্রেক্ষাগৃহে পালন করে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস। এবারের মহিলা দিবসের থিম ছিল ব্যালেন্স ফর বেটার।আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের সাথে সংগতি রেখে প্রজেক্সেল ফাউন্ডেশন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ৫ জন মহিলাকে সম্মানিত করেন।


প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে অনুষ্ঠানের শুভরাম্ভ করেন এই অনুষ্ঠানের মুখ্য অথিতি সুনিতা অধিকারী, ও নিবেদিতা তরফদার ,লিপিকা।সিংহ, ও রাজীব বণিকের সাথে উপস্থিত অনেক গণ্যমান্য অনেক ব্যক্তিরা।এই অনুষ্ঠানে প্রজেক্সেল ফাউন্ডেশন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত মহিলাদের প্রদান করেন প্রজেক্সেল এয়ার্ড ২০১৯।এই এয়ার্ড প্ৰদান করা হয় দীপান্বিতা মুখার্জি খান,(সাহিত্যিক),নিবেদিতা চন্দ (শিক্ষিকা)।দেবযানী পাটিকার (সাংবাদিক),আশা কাকবানী( উদ্যোক্তা,) ভাষা ও সঙ্গীতা চৌধুরি (প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া)। অনুষ্ঠানের নৃত্য প্রদর্শন করেন প্রিয়াঙ্কা পালিত নন্দী, পারিজাত বিশ্বাস,প্রাদান্য রায় ও সংগীতা গ্রুপ। সংগীত পরিবেশন করেন সোমা পুরকায়স্থ,তার সাথে সঙ্গত করেন তার মেয়ে জাগৃতি পুরকায়স্থ।অনুষ্ঠানে প্ৰজেক্সেল ফাউন্ডেশনে ফাউন্ডার সীমা পুরকায়স্থ রায় এ প্রসঙ্গে বলেন সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা ছাড়া মহিলা সরলীকরণ, মহিলাদের অধিকার, ও সমঅধিকার রক্ষা করার জন্য প্রজেক্সেল ফাউন্ডেশন আগামী ভবিষ্যতেও বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কাজ করবেন। মহিলা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী প্রতিযোগীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
শিক্ষক তথা সমাজকর্মী জ্যোতির্ময় ঘোষাল-এর প্রয়ানে স্মরন সভা

শিক্ষক তথা সমাজকর্মী জ্যোতির্ময় ঘোষাল-এর প্রয়ানে স্মরন সভা


জয়শ্ৰী আচাৰ্য, লামডিং: 
লামডিং রেলওয়ে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক তথা সমাজকর্মী জ্যোতির্ময় ঘোষাল-এর প্রয়ানে মর্মাহত সহকর্মী এবং প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে এক স্মরন সভা আয়োজিত হয়। 
গত ৯ ই জুন স্থানীয় আজাদ হিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত স্মরনসভায় জ্যোতির্ময় ঘোষাল-এর প্রতিকৃতির সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রেলওয়ে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীগন। প্রাক্তন ছাত্র কনক চক্রবর্তীর স্বাগত ভাষনের পর কবিগুরুর 'পুরানো সেই দিনের কথা' গানটি সমবেত কন্ঠে পরিবেশন করেন শিক্ষবিদ তথা জ্যোতির্ময় ঘোষালের সহকর্মী সন্তোষ সেনগুপ্ত এবং প্রাক্তন ছাত্র=ছাত্রীবৃন্দ। 
জ্যোতির্ময় ঘোষাল-এর কর্মজীবন এবং আদর্শ নিয়ে স্মৃতিচারনে অংশ নেন রেলওয়ে স্কুলের অধ্যক্ষ বোরহান আলি, সন্তোস সেনগুপ্ত, নেপাল দাস, সদাগর মজুমদার, নির্ম্যল্য সাহা এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীগন। এছারা ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে স্মৃতিচারন করেন মৃদুল কান্তি মালাকার, বুল্টি ঘোষ, তুহিনাংশু চৌধুরী বিপ্লব দে এবং অন্যান্যরা। 
অনুষ্ঠানে জ্যোতির্ময় ঘোষাল-এর স্মরনে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কনক চক্রবর্তী। স্মরনসভার আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন কনক চক্রবর্তী, রাকেশ রায়, তন্ময় দেব, দেবাশিষ সরকার, বাপ্পা দে, সৌমিত্র দাস, বিপ্লব দে। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং সঞ্চালন করেন রেলওয়ে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র তথা শিক্ষক সুব্রত ভট্টাচার্য।
উচ্চতর মাধ্যমিকের ফল ঘোষণা : শীৰ্ষস্থানে সম্প্ৰীতি, অমর এবং রৌনক

উচ্চতর মাধ্যমিকের ফল ঘোষণা : শীৰ্ষস্থানে সম্প্ৰীতি, অমর এবং রৌনক


জীবন গঢ়ার পরীক্ষায় শহরকে পিছিয়ে ফেলে এগিয়ে গ্ৰামাঞ্চল 

গুয়াহাটী ব্যু’র : ঘোষণা করা হলো উচ্চতর মাধ্যমিক ফাইনাল পরীক্ষার ফল। এবারের পরীক্ষায় আৰ্টস, কমাৰ্স এবং সায়েন্স তিনটি বিভাগে বসেছিল রাজ্যের মোট ২,৫৪,৫৬৪ জন পড়ুয়া৷ এরই মধ্যে প্রায় ১.৯৫ লক্ষ কলা, প্রায় ৩৮ হাজার বিজ্ঞান এবং ১৮ হাজার বাণিজ্য শাখায় অৱতীর্ণ হয়েছিলো৷ জীবন গঢ়ার এই পরীক্ষার ফলাফলে শহর অঞ্চলকে পিছিয়ে ফেলে এগিয়ে আছে গ্ৰামাঞ্চল৷ 
কলা শাখার শীৰ্ষে স্থান পান নগাওয়ের রামানুজন জুনিয়র কলেজের সম্প্ৰীতি রাজখোৱা। ৪৮৭ নম্বর পেয়ে শীৰ্ষস্থান দখল করেন সম্প্ৰীতি। বিজ্ঞান শাখার শীৰ্ষে হোজাইয়ের আজমল কলেজের অমর সিং থাপা। ৪৮৬ নম্বর পেয়ে শীৰ্ষস্থান দখল করেন অমর সিং থাপা। এবং বাণিজ্য শাখার শীৰ্ষে নগাওয়ের গীতাঞ্জলি জুনিয়র কলেজের রৌনক লোহিয়া। ৪৭৪ নম্বর পেয়ে শীৰ্ষস্থান দখল করেন রৌনক। 
উচ্চতর মাধ্যমিকের ফাইনাল পৰীক্ষায় কলা শাখার দ্বিতীয় স্থানে নগাওয়ের কনসেপ্ট জুনিয়র কলেজের ত্ৰিদীপ বরা। ত্ৰিদীপের প্ৰাপ্ত নম্বর ৪৮৫৷ ৪৮৪ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থানে বরপেটা জেলার পাঠশালার কৃষ্ণকান্ত সন্দিকৈ জুনিয়র কলেজের ভনীতা রয়। ৪৮২ নম্বর পেয়ে চতুৰ্থ স্থানে একই কলেজের ঋতুপৰ্ণ কলিতা। পঞ্চম স্থানে যোরহাটের প্ৰাগজ্যোতিকা জুনিয়র কলেজের অনিন্দিতা নাথ। অনিন্দিতার প্ৰাপ্ত নম্বর ৪৮১৷ ষষ্ঠ স্থানে বরপেটা জেলার পাঠশালার কৃষ্ণকান্ত সন্দিকৈ জুনিয়র কলেজের হিয়াশ্ৰী চৌধুরী। সপ্তম স্থানে নগাওয়ের রামানুজন জুনিয়র কলেজের ত্ৰিপৰ্ণা বরা। ৪৭৮ নম্বর পেয়ে অষ্টম স্থানে একই কলেজের অংকিতা ছেত্ৰী। ৪৭৭ নম্বর পেয়ে নবম স্থানে লখিমপুরের লোহিত দিক্ৰং এইচ এস স্কুলের মানস প্রতিম শইকীয়া এবং বিশ্বনাথের ডাফনে জুনিয়র কলেজের অংকিতা হাজরিকা।৪৭৬ নম্বর পেয়ে দশম স্থানে গোলাঘাট জাতীয় মহাবিদ্যালয়ের সঞ্চিতা শইকীয়া, টীয়ক রাজাবারা উঃ মাঃ বিদ্যালয়ের রাহুল দাস এবং চামতা উঃ মাঃ বিদ্যালয়ের পম্পী বৰ্মন। 
এদিকে বিজ্ঞান শাখার দ্বিতীয় স্থানে বরপেটা জেলার পাঠশালার কৃষ্ণকান্ত সন্দিকৈ জুনিয়র কলেজের নীহারিকা গোস্বামী। নাহারিকার প্ৰাপ্তন নম্বর মোট ৪৮৩৷ ৪৮০ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থানে বরপেটা জেলার পাঠশালার কৃষ্ণকান্ত সন্দিকৈ জুনিয়র কলেজের ভাস্করজ্যোতি কলিতা এবং দরং কলেজের মৃণালজ্যোতি পৌড়েল। চতুৰ্থ স্থানে বরপেটার কৃষ্ণকান্ত সন্দিকৈ জুনিয়র কলেজের ভাস্বতী কলিতা এবং কাছারের ৰামানুজ গুপ্তা জুনিয়র কলেজের পৃথ্বিরাজ দে’। তাদের প্ৰাপ্ত নম্বর ৪৭৯৷ ৪৭৭ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থানে যোরহাটের প্রজ্ঞা একাডেমী জুনিয়র কলেজের সুদৰ্শন সিং সন্ধু। ষষ্ঠ স্থানেত ডিব্ৰুগড় সরকারি বালিকা উঃ মাঃ বিদ্যালয়ের অন্তরা ফুকন। অন্তরার প্ৰাপ্ত নম্বর ৪৭৬৷ ৪৭৪ নম্বর পেয়ে সপ্তম স্থানে গোলাঘাটের রেডিয়াণ্ট কলেজের অভিজ্ঞান শৰ্মা গগৈ, যোরহাটের প্ৰজ্ঞা একাডেমী জুনিয়র কলেজের প্ৰজ্ঞা প্ৰিয়া বরা, নগাওয়ের রামানুজন জুনিয়র কলেজের মৃণ্ময় দাস এবং শিবসাগর জুনিয়র কলেজsর রমিন গগৈ। ৪৭৩ নম্বর পেয়ে অষ্টম স্থানে দখল করেছে গোলাঘাটের রেডিয়াণ্ট কলেজের অভিপ্সা ফুকন এবং করিমগঞ্জের এছ ভি বিদ্যা নিকেতনের সাকিল আখতার।৪৭২ নম্বর নবম স্থানে ডিব্ৰুগড় সরকারি বালিকা উঃ মাঃ বিদ্যালয়ের স্বাগত গগৈ। ৪৭১ নম্বর পেয়ে দশম স্থানে বরপেটার আনন্দরাম বরুয়া একাডেমির ফারদিন রফিক, গুয়াহাটি কটন কলেজের উজ্জাবল জৈন, নলবারীর শংকরদেব একাডেমির আসমা য়াছমিন, উত্তর লখিমপুর কলেজের জ্যোতিৰ্ময় দত্ত এবং নগায়ের রামানুজন জুনিয়র কলেজের ঋত্বিকা কুমারী সিং। 
বাণিজ্য শাখার দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন ডিব্ৰুগড়র ছল্ট ব্ৰুক একাডেমির দীক্ষিতা বরুয়া। দীক্ষিতার প্ৰাপ্ত নম্বর মোট ৪৭১৷ ৪৬৪ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থানে ডিব্ৰুগড়র জ্ঞান বিজ্ঞান একাডেমির শ্বেতা দাস। ৪৬৪ নম্বর পেয়ে চতুৰ্থ স্থানে নগাঁও গীতাঞ্জলি জুনিয়র কলেজের রাধিকা আগরয়াল এবং দরং কলেজের সাক্ষী সিং। পঞ্চম স্থানে ওদালগুরির নেসনাল পায়’নিয়ার জুনিয়র কলেজের মোহন প্ৰধানে। ৪৬১ নম্বর পেয়েছন মোহন প্ৰধান। ষষ্ঠ স্থানে কাছারের ৰামানুজ গুপ্তা জুনিয়র কলেজের সয়ন পাল এবং ওদালগুরির নেসনাল পায়’নিয়ার জুনিয়র কলেজের বিধি বেরিয়া। তাদেৰ প্ৰাপ্ত নম্বর মোট ৪৬০৷ ৪৫৯ নম্বর পেয়ে সপ্তম স্থানে কাছারের ৰামানুজ গুপ্তা জুনিয়র কলেজের কুন্তলা গুপ্তা। অষ্টম স্থান অধিকার করেছে ডিব্ৰুগড়র ছল্ট ব্ৰুক একাডেমীর অভিভাবন হাজরিকা, হাইলাকান্দি জুনিয়র সায়েন্স কলেজের য়শ সারদা এবং নগাওয়ের গীতাঞ্জলি জুনিয়র কলেজের চিংকী চেতিয়া। তাদের মোট প্ৰাপ্ত নম্বর ৪৫৮৷ ৪৫৭ নম্বর পেয়ে নৱম স্থানে গুয়াহাটী কমাৰ্স কলেজের প্ৰতীক্ষা বচ্যাস এবং তিনিসুকিয়ার মাৰ্ঘেরিটা কলেজের বিশাল দেবনাথ। ৪৫৬ নম্বর পেয়ে দশম স্থান অধিকার করেছে দরঙের ব্ৰিলিয়েণ্ট একাডেমীর পল্লবী দাস, গুয়াহাটী কমাৰ্স কলেজের মৃত্ৰিকা নাথ এবং হোজায়ের শংকরদেব জুনিয়র কলেজের অক্ষত চাওচারিয়া।
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে অভিযােগ বিজেপি বিধায়কের, অস্বীকার রঞ্জিত দাসের

মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে অভিযােগ বিজেপি বিধায়কের, অস্বীকার রঞ্জিত দাসের

গুয়াহাটি : নাগরিকত্ব সংশােধনী বিল নিয়ে রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ মিছিল আন্দোলন অব্যাহত আছে। আসুর নেতৃত্বে আজ রাজ্যজুড়ে আন্দোলন হয় মরিয়নি, কামরূপ, ঢেকিয়াজুলি, গহপুর, তেজপুর, গােলাঘাট, টিয়ক, ধানশিরি প্রভৃতি অঞ্চলে। বিলটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন হয়। আসুর সঙ্গে আইনজীবিদের এক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। আসুর উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বিলটির কোনও পর্যায়ে গ্রহণ করা হবে না বলে, রাজ্য সরাকারকে সতর্ক করেন। এই বিলটি এবং অন্যান্য ব্যাপারে রাজ্যের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়াল এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি রঞ্জিত দাস এক বৈঠকে বসেছিলেন। এই বৈঠকের পর পঞ্চায়েত মন্ত্রী নব দলে জানিয়েছেন, এন আর সির চুড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশের পর রাজ্য সরকার নাগরিকত্ব বিলটি সম্পর্কে তাদের স্থিতি জানাবে। 
নাগরিকত্ব বিল নিয়ে সরকারে অন্দর মহলে এবং বিজেপি দলের মধ্যে মতানৈক্যের সৃষ্টি হয়েছেবলে দলের মধ্যেই অভিযােগ উঠেছে। এক বৃহৎ সংখ্যক বিজেপি কর্মী বিলটির প্রকাশ্যে বিরােধীতা না করলেও অন্দর মহলে বিলটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে, কিন্তু সংঘ পরিবার বিলটির পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এই বিলটি নিয়ে বিজেপি বিধায়ক ঋতুপর্ণ বরুয়া গুরুতর অভিযােগ করে বলেছেন—“মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার জন্য গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়ালের ভাবমূর্তিতে কালিমা লিপ্ত করার জন্য গােলাঘাট থেকে উজনি অসম পর্যন্ত গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, এর পিছনে টাকার খেলাও চলছে।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি রঞ্জিত দাস এই অভিযােগনস্যাৎকরে বলেছেন, বিধায়ক বরুয়া ব্যক্তিগত মন্তব্য করেছে, দলের মন্তব্য নয়। দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি জানান— মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়ালের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার কোনও ষড়যন্ত্র হয়নি। বিজেপি বিধায়ক মৃণাল শইকীয়া ঋতুপর্ণ বরুয়াকে চ্যালঞ্জ করে বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যতি সত্যি কোনও ষড়যন্ত্র হয়ে থাকে তবে প্রকাশ্যে বলুন, তবে দল ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ আজ সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বলেছেন- হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়ালের ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়েছে। রাজ্য যেন গৃহ যুদ্ধ চলছে।
সাংসদ গৌরব গগৈকে বাংলার দায়িত্ব

সাংসদ গৌরব গগৈকে বাংলার দায়িত্ব

অপসৃত জোশীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রদেশ কংগ্রেসের

কলকাতা : দায়িত্বের হাতবদল। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসকে দেখভালের ভার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল সি পি জোশীকে। তাঁর জায়গায় এলেন গৌরব গগৈ। এআইসিসির তরফে রবিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন সাধারণ সম্পাদক অশৌক গহলৌত। পশ্চিমবঙ্গ এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সাংগঠনিক পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে জোশীকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জনানো হয়েছে। আর বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার মুহূর্ত থেকেই পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের পুত্র গৌরব। কয়েক মাস আগেই শেষ হয়েছে কংগ্রেসের সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়া। এ বারের সম্মেলনে আর এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হননি রাজস্থানের নেতা তথা দেশের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী সি পি জোশী। তখনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল জোশীকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরানো হতে পারে।
অসমের কলিয়াবর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ গৌরব গগৈ হলেন রাহুল ঘনিষ্ঠ তরুণ ব্রিগেডের অন্যতম সদস্য। সর্বভারতীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে কংগ্রেসের কিছু সাংগঠনিক কাজ দেখভাল করার দায়িত্ব গৌরব আগেই পেয়েছিলেন। এ বার তাঁকে বাংলা ও আন্দামানের পর্যবেক্ষক করা হল।দায়িত্বের হাতবদলে বেশ খুশি প্রদেশ কংগ্রেস। সি পি জোশী সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ্যেই জানাচ্ছেন একাধিক নেতা। সদ্য প্রাক্তন পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে মন্তব্যে করতে গিয়ে একটুও রাখঢাক করছেন না অনেকেই। ওমপ্রকাশ মিশ্র বললেন, ‘‘প্রায় পাঁচ বছর জোশী পশ্চিবঙ্গের দায়িত্বে ছিলেন। হাতে গুণে বলে দেওয়া যায়, ক’দিন তিনি বাংলায় এসেছেন। একদমই সময় দিতেন না। ওঁকে নিয়ে আমরা খুব অস্বস্তিতেই ছিলাম। পর্যবেক্ষক বদল হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।’’ আর এক কংগ্রেস নেতা ঋজু ঘোষালের কথায়, ‘‘গৌরব গগৈ তরুণ নেতা, উৎসাহ-উদ্দীপনা অনেক বেশি। বাংলার কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগও রয়েছে। ফলে এআইসিসি-র এই সিদ্ধান্তে উপকারই হবে।’’
অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠক

অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠক

গুয়াহাটিতে ৭০ টি সংগঠনের প্রতিনিধিকে নিয়ে অসম সাহিত্য সভার বৈঠক 

গুয়াহাটি : মীরাটের সাংসদ রাজেন্দ্র আগরওয়ালা নাগরিকত্ব সংশােধনী বিলের যৌথ সংসদীয় কমিটীর চেয়ারম্যান। উত্তর প্রদেশের এক কেন্দ্রে উপ-নির্বাচনের জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটীর বৈঠক অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। সে বৈঠকেই নাগরিকত্ব বিল সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং বিলটি ধর্মীয় ভিত্তিতে করার ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি দেখেন নি। তবে কবে বিলটি সংসদে উঠবে, সেইব্যাপারে তিনি কিছুই জানাননি। রাজ্যে নাগরিকপঞ্জীর কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। প্রায় ৫০ হাজার সরকারী কর্মচারী ২৪ ঘণ্টা এই কাজে নিয়ােজিত। আগামী ৩০জুনের মধ্যে দ্বিতীয় খসড়া তালিকা প্রকাশ পাবে। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়াল আজও তিনসুকিয়াতে বলেছেন, বিলটি নিয়ে আশংকা প্রকাশ করার কিছুই নেই। 
সরকার রাজ্যবাসীর স্বার্থবিরােধী কাজ করবেনা। এই প্রেক্ষাপটে আজ অসম সাহিত্য সভার উদ্যোগে গুয়াহাটিতে প্রায় ৭০ টি সংগঠনের প্রতিনিধিকে নিয়ে সংশােধনী বিল সম্পর্কে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অসম সাহিত্য সভার সভাপতি পরমানন্দ রাজবংশী আগামী তিন দিনের মধ্যে এক প্রস্তাব গ্রহণ করে ঘােষণা পত্র প্রস্তুত করবেন বলে জানান। সভাপতি বলেন, রাজ্যের খিলঞ্জিয়া মানুষের স্বার্থ সুরক্ষা করে ঘােষণা পত্র প্রস্তুত করা হবে। বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ডঃ হীরেন গােহাঁই বলেন, সংসদীয় বিলটি জাতিধ্বংসী বিল। আন্দোনের জন্যে রাজ্যবাসীকে বহু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। এইবিল নিয়ে তাদের আন্দোলন কোনও জাতি-জনগােষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। বিশিষ্ট সাংবাদিক ধীরেন্দ্র নাথ বেজবরুয়া বলেন, এই বিলটি এনে সরকার অপরাধ করেছে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ উদয়াদিত্য ভড়ালী বলেন, জাতিধ্বংসী এই বিলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইকরতে হবে। আসুর সাধারণ সম্পাদক লুরীণজ্যোতি গগৈ বলেন—বিলটি কার্যকরী করলে চরম পরিণতির জন্য সরকারকে প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রাক্তন সাংসদ কুমার দীপক দাস বিলটির বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখে বলেন, আগামী জুলাইমাসের সংসদের অধিবেশনে তারা বিরােধ করবেন। কর্মচারী পরিষদের নেতা বাসব কলিতা বলেন, বিলটি যেকোনও ভাবে আটকাতে হবে বলে হুংকার দেন। নাগরিকত্ব সংশােধনী বিল নিয়ে বিজেপির মধ্যেই অন্তঃদন্দের সৃষ্টি হয়েছে। 


বিজেপির বিধায়ক বিনােদ হাজরিকা আজ হুংকার দিয়েছেন, বিদেশিমুক্ত অসম গড়তে না পারলে এবং বিলটি কার্যকরী করলে এক মুহুর্তের জন্যও দলে থাকবে না। এর আগে দিসপুরের বিজেপি বিধায়ক অতুল বরা, গুয়াহাটির বিজেপি সাংসদ বিজয়া চক্রবর্তী প্রমুখ এই বিলটির বিরােধিতা করে অসমবাসীর অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার কথা বলেন। শরিক দল অগপ ইতিমধ্যে হুংকার দিয়েছে, যেকোনও সময় সরকার থেকে সরে আসবে। 
এই বিশৃংখল এবং ডামাঢােলের বাজারে বিজেপি বিরােধী এই জোটে অগপ, বিপিএফ, এআইইউডিএফ এবং কংগ্রেস দলকে সামিল করে বিকল্প সরকার গড়ার মতাে কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুল খালেকের এক প্রস্তাব নিয়ে গােটা রাজ্য জোর চর্চা হয়েছে। এই প্রস্তাবটি রাজনৈতিক মহল লুফে নিয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মহন্ত প্রস্তাবটি সমর্থন না করেও মন্তব্য করেছেন, রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছুই নেই। প্রত্যুত্তরে আব্দুল খালেক সরাসরি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল মহন্ত এই প্রস্তাবে সারা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে এন আর সি কৰ্তৃপক্ষের

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে এন আর সি কৰ্তৃপক্ষের

সংখ্যালঘু বিরােধী নির্দেশের প্রতিবাদ কংগ্রেসের : ২৭ মে বৈঠক পরিষদীয় দলের 

গুয়াহাটি : সারা দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য অসম, যেখানে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এন আর সি) র নবায়নের কাজ চলছে। রাজ্যের ৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩১ ডিচেম্বর ১ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষের নাম প্রথম খসড়া তালিকায় প্রকাশ পেয়েছে। রেজিষ্টার জেনারেল অফ ইণ্ডিয়ার গাইডলাইন অনুযায়ী এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মর্মে রাজ্যে এন আরসির কাজ চলছে। বিরােধী দল কংগ্রেস, আমসু, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি, বরাক উপত্যকার বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সন্মেলন প্রভৃতি দল সংগঠন অভিযােগ করেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে উপেক্ষা করে গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিভিন্ন সময়ের রায়কে উপজীব্য করে এনআরসির সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা নানা বিজ্ঞপ্তি জারি করছেন, যার ফলে আশঙ্খ তৈরি হয়েছে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক লক্ষ লক্ষ হিন্দু-মুসলিম সংখ্যালঘু মানুষের নাম এনআরসির তালিকা থেকে বাদ পড়বে। যা প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষে দাঁড়াবে। সেই রাষ্ট্রহীন লােকগুলাের ভাগ্যে কি ঘটবে। তা প্রায় অনিশ্চিত। 
কংগ্রেসেব পরিষদীয় দলপতি দেবব্রত শইকিয়া, উপদলপতি কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, এবং বিধায়ক আব্দুল খালেক আজ এক বৈঠকে এনআরসি কতৃপক্ষের বিভিন্ন সংখ্যালঘু বিরােধী বিজ্ঞপ্তির সমালােচনা করে। আগামীর ২৭ মে প্রদেশ কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের এক বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডি ভােটার, এবং যাদের মামলা বিদেশী ট্রাইব্যুনালগুলিতে ঝুলছে তাদের নামতাে এন আরসি তালিকায় উঠবেই না তাদের সন্তান-সন্ততি এবং আত্মীয় স্বজনদের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়বে। 
গত ১ এবং ২ মে এনআরসি সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা দু দুটি নির্দেশিকা জারি করেছেন, যা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু মানুষেব নাম বাদ পরে যাবে। যে কোন ও নথিকে ‘দুর্বল বলে খারিজ করে দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। বিধায়ক কমলাক্ষদে এবং আব্দুল খালেক আজ অভিযােগ করেন, প্রধানত সংখ্যালঘু অধূষিতজেলা গুলিতেই নথি পত্র পরীক্ষার নামে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। গাওঁবুঢ়াদের সার্টিফিকেট, অবিবাহিত ও পুরুষদের জমা দেওয়া পঞ্চায়েত নথি, শিশুর টিকাকরণের প্রমাণ পত্র, রেশন কার্ড, বেসরকারি স্কুল কলেজের সার্টিফিকেট, জন্মের এক বছর পর সংগ্রহ করা প্রমাণ পত্র এমনকি শৰণার্থীদের প্রমাণ পত্র ও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। অধিকাংশ নথিগুলকে দুর্বল নথি বলে খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। কংগ্রেস নেতারা এই ভয়ানক পরিস্থিতির কথা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছে।
ত্রুটিহীন ফলাফল প্রকাশ এবং মার্কশিট ও অন্যান্য নথি পত্র একই দিনে পৌঁছিয়ে দিয়ে নজির গড়েছে অসমঃ শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য

ত্রুটিহীন ফলাফল প্রকাশ এবং মার্কশিট ও অন্যান্য নথি পত্র একই দিনে পৌঁছিয়ে দিয়ে নজির গড়েছে অসমঃ শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য

মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়ালের উত্তীর্ণ সফল ছাত্র-ছাত্রীদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন 

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : 
হাইস্কুল শিক্ষান্ত এবং হাই মাদ্রাসা পরীক্ষার ফলাফলের পর শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্মেলনে আজ রাজ্যের সফল ছাত্র-ছাত্রীদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। গুয়াহাটি মহানগরীর ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক সুযােগ সুবিধা পাওয়ার পরেও পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। 
মাজির মতাে অনুন্নত এবং বন্যা প্রবণ জেলায় সব থেকে ভালাে ফল করায় শিক্ষামন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন, সেই জেলায় ৭৯.৭৬ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী পাশ করেছেন। সেক্ষেত্রে গুয়াহাটি মহানগরীতে পাশের সংখ্যা হচ্ছে ৬৭.১৫ শতাংশ। সারা দেশের মধ্যে অসমে ৩লক্ষাধিক ছাত্র-ছাত্রী একই দিনে ত্রুটিহীন ফলাফল প্রকাশ এবং মার্কশিট ও অন্যান্য নথি পত্র একই দিনে বিদ্যালয়গুলিতে পৌঁছিয়ে দিয়ে নজির গড়েছে অসম। 
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৩ লক্ষ ৩৭ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিল, উত্তীর্ণের হার ৫৬.০৪ শতাংশ। কংগ্রেস রাজত্বে মাধ্যমিকের ফল উন্নত দেখাতে গােপনে গ্রেস মার্ক দেওয়া হতাে। মন্ত্রী জানান এইবার গ্রেস মার্ক হ্রাস করে দেওয়া হবে। আজ হাইস্কুল শিক্ষান্ত এবং হাই মাদ্রাসা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে সকাল ৯টায়। তার দুঘন্টা আগে হােজাইয়ের বিজেপি যুব মৰ্চার সভাপতি মানব জ্যোতি বরা সকাল ৭টা নাগাদ ফেসবুকে পুরাে ফলাফল পােষ্ট করে দেয়। বিজেপির অপর এক যুব নেতাও একই দূষ্কর্ম করেছেন বলে অভিযােগ পাওয়া গেছে। এই গুরুতর অভিযােগের পরও শিক্ষামন্ত্রী শুধু জানান যেই এই কাজটা করুক না কেন খুব খারাপ কাজ করেছ। তাদের বিরদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন নি। 
মন্ত্রী জানান আমি সকাল ৯টায় পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারি তার আগে কি করেই বা ফল প্রকাশ পাবে? তিনি জানান মাধ্যমিকে অনুত্তীর্ণরা এবং কম্পার্টমেন্টাল পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা উত্তরপত্র পুনপরীক্ষণের জন্য ১জুন থেকে অন লাইনে আবেদন করতে পারবে এবং ৩৫০ টাকা ফিস দিতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের জন্য অর্থের কোনও অভাব হবে না। 
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়াল রাজ্যের উত্তীর্ণ সফল ছাত্রছাত্রীদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বলেন, যারা সফল হতে পারেনি তাদেরকেও হতাশ না হয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে পড়া শুনা করার আবেদন করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্থান পেপার করপােরেশনের অধীন জাগীরােড এবং পাঁচগ্রাম পেপার মিল গত দুবছৰ ধরে বন্ধ হয়ে পরে আছে। রাজ্যের মন্ত্রী পীযুষ হাজরিকা এবং রেলওয়ে প্রতিমন্ত্রী রাজেন গােহাই দিল্লীতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে এই পেপার মিল দুটির অধীন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় দুটি খােলার আশ্বাস পেয়েছেন, শীঘ্রই বিদ্যালয় দুটিতে এ্যাডমিশন শুরু হবে।
ঘোষণা হলো ফলাফল, হাইস্কুলের শীৰ্ষস্থানে রক্তিম, হাইমাদ্ৰাসার শীৰ্ষস্থানে মিজানুর

ঘোষণা হলো ফলাফল, হাইস্কুলের শীৰ্ষস্থানে রক্তিম, হাইমাদ্ৰাসার শীৰ্ষস্থানে মিজানুর


গুৱাহাটী : অৱশেষে ঘোষণা করা হলো হাইস্কুল ও হাইমাদ্ৰাসা পরীক্ষার ফলাফল। এবারের পরীক্ষায় উত্তীৰ্ণর হার ৫৬.০৪ শতাংশ। ধেমাজি জেলায় সৰ্বোচ্চ ৭৯.৭৬ শতাংশ এবং ওদালগুড়ি জেলায় সৰ্বনিম্ন ৩৬.৯৭ শতাংশ উত্তীৰ্ণ হয়েছে । 
হাইস্কুল পরীক্ষার প্ৰথম ১০টি স্থানে : 
প্ৰথম স্থান (৫৯৩) 
রক্তিম ভূইয়া, মুনলাইট হাই স্কুল, শোণিতপুর 

দ্বিতীয় স্থান (৫৯২): 
অবিনাশ কলিতা, আনন্দরাম বরুয়া একাডেমী হাইস্কুল, বরপেটা 
প্ৰীতপল বেজবরুয়া, টিহু হাইস্কুল, নলবারী 

তৃতীয় স্থান (৫৯১): 
সুলতানা আয়েসা সিদ্দিকা, সেন্ট টেরেসা ইংলিছ হাই স্কুল, বরপেটা 
জিন্টী দেবী, সেইন্ট জন্স’ হাইস্কুল, বাক্সা 
আৰ্বি চলিহা, সূদৰ্শন পাব্লিক হাইস্কুল, কামরূপ (ন) 

চতুৰ্থ স্থান (৫৯০): 
সীমা কুইন কাশ্যপ, পায়নিয়ার একাডেমি, পুঠিমারী, কামরূপ 
ঋত্বিক শ্যাম শইকীয়া, সেইন্ট মেরী হাই স্কুল, উত্তর লখিমপুর 
রাজশ্ৰী নন্দিনী কাকতী, খ্ৰীষ্টজ্যোতি হাইস্কুল, নগাওঁ 
দেয়াশীস ভরদ্বাজ, চামতা হাইস্কুল, নলবারী 
ব্রজেনজিৎ হাজরিকা, অম্বিকাগিরী রায়চৌধুরী জাতীয় বিদ্যালয়, শোণিতপুর 

পঞ্চম স্থান (৫৮৯): 
নিবির ডেকা, আনন্দরাম বরুয়া হাইস্কুল, বরপেটা 
বিদৰ্শন দত্ত, সেইন্ট মেরী হাইস্কুল, উত্তর লখিমপুর 
রাজা স্নেহাশিষ গুপ্তা দত্ত, বালিকুরীয়া বাপুজী বিদ্যাপীঠ, নলবারী 

ষষ্ঠ স্থান (৫৮৮): 
ভাস্বতী কলিতা, চেইন্ট এলবাৰ্ট হাইস্কুল, বঙাইগাঁও 
অনুস্কা বরদলৈ, জোনাকী সংঘ হাইস্কুল, যোরহাট 
কল্পজ্যোতি গগৈ, পানীন্দ্র বিদ্যাপীঠ, উত্তর লখিমপুর 
ধৃতিস্মান ভূইয়া, রামস্বরূপ ইংলিছ হাইস্কুল, ওদালগুরী 

সপ্তম স্থান (৫৮৭): 
গরীয়সী দেবী, শংকরদেব শিশু নিকেতন, বঙাইগাঁও 
নিতিশা শিবম, চেইন্ট জনচ’ হাইস্কুল, বাক্সা 
শিয়ানুজ বরকটকী, এ এইচ ডি হাই স্কুল, শিবসাগর 
পল ভূইয়া, তেজপুর সরকারী হাইস্কুল, শোণিতপুর 

অষ্টম স্থান (৫৮৬): 
অনিন্দিতা কাকতী, রেইনব’ ইংলিছ হাইস্কুল, বাক্সা 
আশীষ সন্দিকৈ, বি ভি এফ সি মডেল হাইস্কুল, ডিব্ৰুগড় 
অংগনা হাজরিকা, ডনবক্স হাইস্কুল, যোরহাট 
অংকুরজ্যোতি ঠাকুরীয়া, শংকরদেব শিশু নিকেতন, কামরূপ (গ্ৰা) 
গুঞ্জানন বরুয়া, দপানী হাইস্কুল, শিবসাগর 
বিপাঞ্চ ডেকা, সূদৰ্শন পাব্লিক হাইস্কুল, কামরূপ (ন) 

নবম স্থান (৫৮৫): 
শ্যামলিমা পাঠক, সেন্ট টেরেসা হাইস্কুল, বরপেটা 
বি জেনিথ কাশ্যপ, সূদৰ্শন পাব্লিক হাইস্কুল, কামরূপ (ন) 
শেরমন কাইজার, চেন্ট মেরী হাইস্কুল, কামরূপ (ন) 

দশম স্থান (৫৮৪): 
সায়দা ইনায়া তাওয়াসুম, বি ভি এফ সি হাইস্কুল, ডিব্ৰুগড় 
শ্ৰেয়াছ ভট্টাচাৰ্যী, ছল্ট ব্ৰুক হাইস্কুল 
স্বপ্ননীল ভট্টাচাৰ্যী, বেবীলেণ্ড ইংলিছ হাইস্কুল, কৰিমগঞ্জ 
নায়ীমা ফিরদৌজ বরভূইয়া, নিবাগাম জাতীয় বিদ্যালয়, নগাওঁ 
ভাৰ্গবজ্যোতি দাস, প্ৰাঞ্জল মেম’ রিয়েল একাডেমি, 
রহা সৃষ্টিপ্ৰিয়ম নাথ, সেন্ট জোসেফ হাইস্কুল, গহপুর


হাইমাদ্ৰাসা পরীক্ষার প্ৰথম তিনিটি স্থানে : 
প্ৰথম স্থান (৫৫৬): মিজানুর রহমান, কামানডাঙা হাই মাদ্ৰাসা, ধুবুড়ি। 
দ্বিতীয় স্থান (৫৫৫): নাজমুল হুদা, চাপর মাদ্ৰাসা এইচ এস স্কুল, ধুবুড়ি। 
তৃতীয় স্থান: (৫৪৯) সাবিহা স্ববনম, পশ্চিম মঙলদৈ হাই মাদ্ৰাসা, মঙলদৈ।
মহার্ঘ জ্বালানি তেল, মোদিকে বিঁধলেন মমতা

মহার্ঘ জ্বালানি তেল, মোদিকে বিঁধলেন মমতা

কলকাতা : আর একদিন পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক মঞ্চে উঠবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগেই বৃহস্পতিবার বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শান্তিনিকেতনে পৌঁছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মোদিকে বিঁধলেন মমতা। সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই নিয়ে আক্রমণ করে মমতা বলেন, সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই পেট্রোল–ডিজেলের দাম অবিলম্বে কমানো উচিত কেন্দ্রের। এর প্রতিবাদে শুক্রবার থেকেই যে তৃণমূল পথে নামছে তা জানিয়েছেন তিনি। কালোটাকা উদ্ধারের নামে কেন্দ্র যে কটি পদক্ষেপ করেছে সবগুলি ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। জিএসটি, নোটবাতিল সহ কেন্দ্রের একাধিক সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের উপর শুধু বোঝা বেড়েছে। মোদির প্রতিশ্রুতির মত কারোর ব্যাঙ্কে কোনও টাকাই পড়েনি। মোদি শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়ে গিয়েছেন বলে এদিন অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিক বৈঠকে শান্তিনিকেতন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেশিকোত্তম সম্মান না দেওয়ার ঘটনারও নিন্দা করেছেন তিনি। কেন সাত জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দেশিকোত্তম দেওয়া হচ্ছে না এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সাত বিশিষ্টদের মধ্যে নাম ছিল অমিতাভ বচ্চন, দ্বিজেন ব্যানার্জি, যোগেন চৌধুরীরও। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যোগ দেবেন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। পরের দিন শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা। শনিবার সন্ধেয় কলকাতায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর একটি সৌজন্যমূলক বৈঠক আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দ্বিবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখােমুখিঃ সংশােধনী বিল নিয়ে সরকার কিছুই লুকোচ্ছে না

দ্বিবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখােমুখিঃ সংশােধনী বিল নিয়ে সরকার কিছুই লুকোচ্ছে না


রাজ্যের মানুষের স্বাভিমান, আত্মমর্যাদা, সমবিচার এবং রাজ্যবাসীর সুরক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে নিরলসভাবে প্রয়াস চালাবার অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়াল 

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : 
বিজেপি-অগপ-বিপিএফ জোট সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে রাজ্যের ব্রহ্মপুত্র-বরাক উপত্যকা, পাহাড় সমতলের ৩৩টি জেলার মানুষের স্বাভিমান, আত্মমর্যাদা, সমবিচার এবং রাজ্যবাসীর সুরক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে নিরলসভাবে প্রয়াস চালাবার অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়াল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদীর সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ কে সার্বিক ভাবে বাস্তবায়ন করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, গত দুবছরে সরকার প্রতিটি বিভাগে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন উপহার দিয়েছে। পরিবর্তনের পথে প্রগতি এনেছে। 
আজ খানাপাড়া এ্যডমিনিষ্টেটিভ ষ্টাফ কলেজের প্রেক্ষাগৃহে শরিক দল অগপর মন্ত্রী অতুল ব্রা, বিপিএফ প্রধান হাগ্রামা মহিলারী, মুখ্যসচিব টি ওয়াই দাস, মুখ্যমন্ত্রীর আইন উপদেষ্টা শান্তনু ভরালী, বিদ্যুত্মন্ত্রী পীযুষ হাজরিকা, লখিমপুরের সাংসদ প্রদান বরুয়া প্রমূখদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মিডিয়া এ্যাডভাইসর হৃষীকেশ গােস্বামী সরকারের ২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। সরকারের ২ বছরের মাথায় মুখ্যমন্ত্রী সরকারীভাবে তৃতীয় বার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের মুখােমুখি হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বার বার নাগরিকত্ব সংশােধনী বিল নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মুখােমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী তা প্রায় এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এন আর সি নবায়নের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই সর্বপ্রথম ভারতের কোনাে রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এন আর সি) রূপায়নের কাজ চলছে। এই কর্মসূচি, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি, সরকার এই কর্মসূচি ৰূপায়ণ করছে। আগামি ৩০ জুন চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পাবে। এই কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে রাজ্যের বিদেশী সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। নাগরিকত্ব সংশােধনী বিল সম্পর্কে সরকার কিছুই লুকোচ্ছে না বলে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যৌথ সংসদীয় কমিটিতে এখনও তারা মতামত দেয় নি। রাজ্যবাসীর স্বার্থ পরিপন্থী কোনও মত দেবে না। এই কমিটির কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। সরকার রাজ্যবাসীকে অন্ধকারে রেখে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না। 
রাজ্যেব সীমান্তঞ্চল, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, কৃষি, শিল্পোদ্যোগ, পর্যটন, বন বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন প্রভৃতি ক্ষেত্রে সরকারের সফলতার নানা দিক তুলে ধরেন। বিগত কংগ্রেস রাজত্বেব দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি প্রতিরােধে কংগ্রেস আন্তরিক প্রয়াস চালায়নি। মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে গেয়েছিল। রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের উজ্বল ছবি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে শিল্প বিনিয়ােগ হচ্ছে। রাজ্যে এ্যাডভ্যান্টেজ অসম’ শীর্ষক বিশ্ব শিল্প সন্মেলন সফলভাবে রূপায়িত হওয়ায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার সঙ্গে ২৪০ মৌ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়ােগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাগুলি। আলফা, এনডি এফবি ব সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের শান্তি আলােচনা সফলভাবে চলছে, রাজ্যে শান্তির পরিবেশ দূরে এসেছে। বরাক উপত্যকায় নামামি বরাক’ এবং বহ্মপুত্র উপত্যকায় নমামি বহ্মপুত্র’ উৎসব সফলভাবে বাস্তবায়নের ফলে দুই নদীর জল সম্পদ, বালি পাথর প্রভৃতির সদ্ব্যবহার হয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরােধে সরকার শূণ্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করার ফলে রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু আবগারী বিভাগেই ৭০ শতাংশ রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে। জিএসটি লাগু হওয়াব ফলে ৩৩ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এতদিন রাজস্বের সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা অন্যদের পকেটে ঢুকতাে। 
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের ২৬৩ কিঃ মিঃ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাকারবার, গৰু পাচার প্রভৃতি কমেছে। আগামি ডিচেম্বরের মধ্যে সীমান্ত সীল করা হবে। জল সীমান্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। অনুপ্রবেশ প্রতিরােধে সেকেণ্ড – লাইন ডিফেন্সের ব্যবস্থা হয়েছে। রাজ্যের মানুষ এই মুহূর্তে পেট্রোলজাতীয় সামগ্রীর ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী এই ব্যাপারে কোনাে আশার বাণী শােনাতে পারলেন না। জি এ, টি লাগু হবে কি না সে ক্ষেত্রেও নিরব থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে বল ঠেললেন। সাংবাদিক সন্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়াল এমন কথাও বলেন, “আমি যদি কোনও দোষ করে থাকি তবে আমার বিরুদ্ধেও লিখতে পারেন। সাংবাদিক সম্মেলন শেষে বিপিএফ প্রধান হাগ্রামা মহিলারি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, বিজেপি সরকার ভাল কাজ করছে। তাদের সঙ্গে কোনও মত বিরােধ ঘটে নি।
২০ জন সাংবাদিককের রাজস্থান সফর : ফেলােশিপ প্রদান

২০ জন সাংবাদিককের রাজস্থান সফর : ফেলােশিপ প্রদান

রাজ্যের মানুষের স্বার্থ বিঘ্নিতকারি এমন কোনও সিদ্ধান্তই সরকার গ্রহণ করবে না : সর্বানন্দ সনােয়াল 

গুয়াহাটি : প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিল, ২০১৬ বাতিলের প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। আজ এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়াল পুনরায় রাজ্যবাসীকে আস্বস্ত করে বলেন— ‘বিজেপি সরকার রাজ্যের মানুষের স্বার্থ বিঘ্নিত করে এমন কোনও সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবে না। যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে শাসক বিজেপি দল এখনও কোনও মতামত পেশ করেনি, দল তাদের মতামত পেশ করার সময় রাজ্যের খিলঞ্জীয়া মানুষের স্বার্থ পূরণের সব চেষ্টায় করবে। রাজ্যবাসীর মতামতের বিরুদ্ধে যাবেই না। বর্তমান চলিত রাজ্যব্যাপী আন্দোলন প্রতিবাদ সম্পর্কে বলেন, রাজ্যবাসীকে আবেগিক করে আন্দোলন চালানাে হচ্ছে। তা বেশি দিন টিকবে না অচিরেই তার সমাপ্তি ঘটবে, আরও কিছুদিন অপেক্ষা করুন।’বরাক উপত্যকার পরিস্থিতি ক্রমশ খারাব হচ্ছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা গড়ে উঠছে। 
এ কথা স্মরণ করিয়ে দিলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আর মাত্র কয়েকটা দিন বাদেই পরিস্থিতি শান্ত হবে। বরাকব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববােধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে দেওয়া হবেনা।মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়াল আজ বিশ জন জেলার সাংবাদিকের রাজস্থান সফরের সূচনা করে এবং বিশজন সাংবাদিককে ফেলােশিপ প্রদান অনুষ্ঠান শেষে গুয়াহাটি মাধবদেব আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহের লনে এই প্রতিবেদকের কাছে ব্যক্তিগত আলােচনায় রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আলােকপাত করে রাজ্যবাসীকে আস্বস্ত করে এ কথা জানিয়ে বলেন, রাজ্যের মানুষের স্বার্থ বিরােধী কোনও কাজই সরকার করবেনা। 
মুখ্যমন্ত্রীর প্রেস উপদেষ্টা হৃষীকেশ গােস্বামী, আইনী উপদেষ্টা শান্তনু ভরালী, এডিশনাল চিফ চেক্রেটারি এ. কে. সিং, কামরূপ মেট্রোর ডেপুটি কমিশনার বীরেন মিট্টাল প্রমুখদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়াল এই অনুষ্ঠানে বলেন, রাজ্যে সরকার বরাক-ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকাসহ ৩১ জেলার শান্তি সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে সব কিছু করবে। গণতন্ত্রের ৪র্থ স্তম্ভ সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করলে এই সমাজ কুলষিত হতে পারেনা। দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন উপহার দেওয়া সম্ভব, মানবীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভালাে মানুষ হওয়ার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজস্থান সফরে যাওয়া সাংবাদিকদের সেই রাজ্যের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে অসমের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে উপযুক্ত ভূমিকা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি প্রতিটি রাজ্যর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে শ্রেষ্ঠ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তােলার পরামর্শ দিয়েছেন। 


মুখ্যমন্ত্রী প্রেস উপদেষ্টা হৃষীকেশ গােস্বামী সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের আ্যন্টি ভাইরাস’হিসাবে কাজ করতে হবে। জনসংযােগ বিভাগের ডিরেক্টর রাজিব প্রকাশ বরুয়া বলেন, রাজ্যের ২০ জন সাংবাদিক রাজস্থান সফরে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে ৬ জন মহিলা সাংবাদিক। সাংবাদিকদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচীর কথা জানিয়ে বলেন, রাজ্যের কর্তব্যরত সাংবাদিকদের চিকিৎসার জন্য ১ কোটি টাকার। করপাস ফাণ্ড’ গঠন করা হয়েছে। এই পর্যন্ত ১৫০ জন সাংবাদিকের চিকিৎসার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত রাজ্যের ৩২ জন সাংবাদিকের নিকট আত্মিয়ের হাতে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। মিডিয়া ফেলােশিপের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য ৬৬ জন সাংবাদিক আবেদন করেছিলেন, ২০ জনকে নির্বাচন করা হয়। বিশিষ্ট সাংবাদিক অনুরাধা শৰ্মা পূজারির নেতৃত্বে ৪ সদস্যের এক বিচারক কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের জনসংযােগ বিভাগের কর্মীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান আছে। তাদের সাহিত্য সৃষ্টি তুলে ধরার জন্য বছরে দুইটি করে ম্যাগাজিন প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্তরঙ্গ’শীর্ষক প্রথম ম্যাগাজিনটি মুখ্যমন্ত্রী উন্মােচন করেন। এই প্রথম বরাক উপত্যকার সাংবাদিকদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজস্থান সফরে স্থান করে দেওয়া হয়েছে করিমগঞ্জ জেলার একমাত্র বাংলা দৈনিক নববার্তা প্রসঙ্গর বিশিষ্ট সাংবাদিক মৃণাল সরকার, কাছাড় জেলার বাংলা দৈনিক প্রান্তজ্যোতির সাংবাদিক রত্নদীপ দেব এবং কাছাড়ের বাংলা দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ সাংবাদিক অনিন্দ ভটাচাৰ্য্য। আজকের অনুষ্ঠানে ধীরেন্দ্রনাথ বেজবরুয়া, লক্ষীনন্দন বরা, ধীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, বৈকুণ্ঠ গােস্বামী প্রমূখ বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং জনসংযােগ বিভাগের অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।
রাজ্যের ভেন্সার স্কুলের সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেলের দামে ট্যাক্স বসাতেই হবেঃ হিমন্ত বিশ্ব

রাজ্যের ভেন্সার স্কুলের সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেলের দামে ট্যাক্স বসাতেই হবেঃ হিমন্ত বিশ্ব

পেট্রোলের দাম ৭৯.০৩ টাকা এবং ডিজেলের দাম লিটারে ৭১.০৭ টাকা

গুয়াহাটি : জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীর দামও বাড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল-পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সায়ুজ্য রক্ষা করে প্রতিদিনই দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিগত কংগ্রেস রাজত্বে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারল প্রতি ১১০ ডলার হওয়া সত্বেও প্রতি লিটার তেলের দাম ৭৫ টাকার বেশি হয় নি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। তার পরেও তেলের দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ানাে হচ্ছে। গুয়াহাটি মহানগরে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ৭৯.০৩ টাকা এবং ডিজেলের দাম লিটারে ৭১.০৭ টাকা দাঁড়িয়েছে। আশংকা করা হচ্ছে আর কিছু দিন বাদেই ১০০ টাকা ছুঁয়ে যাবে। গত একসপ্তায় দুইদফা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। 
রাজ্যের মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। সদিয়া থেকে ধুবুড়ি, ডিব্ৰুগড় থেকে বরাক উপত্যকা অধিকাংশ ভূক্তভূগী, সমস্যা জর্জরিত মানুষ আজ দিশাহারা। রাজ্য সরকার প্রতিলিটার পেট্রোলের ভ্যাট (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) আদায় করছে ২৫ টাকা ৮১ পয়সা এবং ডিজেলে আদায় করছে ২৩ টাকা ৩৩ পয়সা। অথচ প্রতিবেশী রাজ্য মেঘালয় প্রতি লিটার তেলের ভ্যাট আদায় করে মাত্র ১৬ টাকা। ভূক্তভূগীরা অভিযােগ করেন, সরকার জি এস টি লাগু করলে তেলের দাম অনেক কমতাে। কারন জি এস টি র সর্বোচ্চ সীমা ২৮ শতাংশ। তেলের অস্বভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে আম জনতার নাভিশ্বাস উঠছে। অথচ ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ এই অঙ্গীকার করা রাজ্যের অর্থ মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ না করে বলেন, মূল্যবৃদ্ধি কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত তাদের কিছু করনীয় নেই। 
রাজ্যের ভেন্সার স্কুলের সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে , তেলের দামে ট্যাক্স বসাতেই হবে। আজ বিধানসভায় বিধায়কদের বেতন-ভাত্তা বৃদ্ধি সংক্রান্ত এনিমিলিটিস কমিটি বৈঠকে বিধায়করা প্রতি কিলােমিটার ৮ টাকার পরিবর্তে ১৫ টাকা করার প্রস্তাব পেশ করে। বিজেপি বিধায়ক তথা এনিমিলিটিস কমিটির চেয়ারম্যান প্রশান্ত ফুকনের পৌরােহিত্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সব সদস্যই তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে তাদের ভ্রমণ ভাত্তায় গাড়ীতে তেল বৃদ্ধির সঙ্গে প্রতি কিলােমিটার ৮ টাকার পরিবর্তে ১৫ টাকা করার প্রস্তাব দেন। এই বৈঠকে উপস্থিত বিরােধী দলপতি দেবব্রত শইকীয়া, এ আই ইউ ডি এফের আমিনুল ইসলাম এবং অগপর রমেন্দ্ৰ কলিতা তাদের প্রস্তাবের সপক্ষেই জানান তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই তাদের প্রতি কিলােমিটারে ১৫ টাকা যুক্তি সঙ্গত দাবি।
চাকরির বয়সসীমা ৩৮ থেকে বৃদ্ধি করে ৪৪, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের বেতন হবে ২০ হাজার

চাকরির বয়সসীমা ৩৮ থেকে বৃদ্ধি করে ৪৪, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের বেতন হবে ২০ হাজার

১৭ জুন ১৯ টি ক্যানসাৰ হাসপাতাল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে রতন টাটাঃ হিমন্ত 

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : 
অসম তথা উত্তরপূর্বাঞ্চল মারণ ৰােগ ক্যানসার প্রবণ অঞ্চল। রাজ্যের হাজার হাজার ক্যানসার রােগী চিকিৎসার জন্য বহিরাজ্যে পাড়ি দেন। রাজ্যবাসীর জন্য সুখবর আগামি দুবছরের মধ্যে রাজ্যে ১৯টি ক্যানসার হাস্পাতাল স্থাপিত হবে। আগামী ১৭ জুন টাটা গ্রুপের প্রধান রতন টাটা গুয়াহাটি থেকে ১৯টি ক্যানসার হাস্পাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই সুখবর দিয়ে জানান, টাটা ট্রাষ্টের সঙ্গে অসম সরকার যৌথ উদ্যোগে দুহাজার কোটি টাকার এক বৃহৎ চুক্তি রূপায়ণ করবে। 
অসম ক্যানসার কেয়ার ফাউণ্ডেশন কোম্পানি নামে এক নব গঠিত কোম্পানি ১৯ টি ক্যানসার হাসপাতাল পরিচালনা করবে। তিনটি ক্যাটাগরিতে হাসপাতালগুলি স্থাপিত হবে। এল-ওয়ান ক্যাটাগরি হাস্পাতাল হবে গুয়াহাটিতে, সেখানে ক্যানসারের জটিল অবস্থার চিকিৎসা হবে। সার্জারি সহ সাধারণ ক্যানসার চিকিৎসার জন্য এল-টু ক্যাটাগরি হাসপাতাল হবে— বরপেটা, যােরহাট, শিলচর, ডিফু, তেজপুর, ধুবুরী,লক্ষিমপুর, নগাঁও এবং ডিব্ৰুগড়। সাধারণ ক্যানসার চিকিৎসার জন্য এল-থ্রি ক্যাটাগরির হাস্পাতাল হবে- কোকরাঝাড়, শিবসাগর,নলবাড়ি, করিমগঞ্জ, দরং, গােয়ালপাড়া, তিনসুকিয়া, গােলাঘাট এবং হাফলং। এই ১৯টি হাস্পাতালের শিলান্যাস হবে ১৭ জুন। 
রাজ্যে আরও দুটি ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে ২০১৬-২০১৭ সালের বাজেটে ডিব্ৰুগড় এবং শিলচরে একটি করে ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১৪ মে আরও দুটি ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৫০টি করে আসনের ডেন্টাল কলেজ স্থাপিত হলে রাজ্যের বেকার যুবকরা ডাক্তারি পড়ার সুযােগ পাবেন। রাজ্যের ২০ লক্ষাধিক বেকার যুবকদের জন্য ভাল খবর দিলেন অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি ঘােষণা করেন, সরকারি চাকরি পাওয়াব বয়স ছিল ৩৮ বছর। তা বৃদ্ধি করে করা হয়েছে ৪৪ বছর। 
শুধু তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণী নয়, সব শ্রেণীর ক্ষেত্রেই এই বয়স প্রযােজ্য হবে বলে মন্ত্রী জানান। কিন্তু পার্সোনেল বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে কেবল তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর ক্ষেত্রেই এই বয়স সীমা ৪৪ বছর। মন্ত্রী জানান, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর চাকরির জন্য কোনও মাসুল লাগবেনা, ট্রেজারি চালান এবং অনলাইন আবেদন ফিজও লাগবেনা। প্রথম শ্রেণী এবং দ্বিতীয় শ্রেণী জন্য মাসুল দিতে হবে ২৫০ টাকা করে। ওবিসি, এসটি প্রভৃতির জন্য মাসুল ধার্য করা হয়েছে ১৫০ টাকা করে। চুক্তিভিত্তিক হাইস্কুলের শিক্ষকদের জন্য বেতন ১৫ হাজাৰ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার শিক্ষক উপকৃত হবে। অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, তাদের বাজেটে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হল। অটল অমৃত যােজনার মতাে দারিদ্র সীমা রেখার তলে বাস করা প্রায় ২৭ লক্ষ (৩২ শতাংশ) মানুষের জন্য আয়ুস্মান ভারত নামে নতুন এক স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু করা হবে। যে কোনও রােগের চিকিৎসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচ দেওয়া হবে, সেই টাকায় চিকিৎসা সম্ভব না হলে অটল অমৃত যােজনার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ ২লক্ষ টাকাও দেওয়া হবে। 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অটল অমৃত যােজনায় রাজ্যের ১১২০ জন রােগী উপকৃত হয়েছে। এই চিকিৎসা খাতে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৪০ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা। সারা দেশের বড় বড় হাসপাতালে এই চিকিৎসা হয়েছে, চমকপ্রদ ক্যাসলেস’এই চিকিৎসা ব্যবস্থা দেশের মধ্যে উন্নতমান চিকিৎসা ব্যবস্থা। ১১২০ জন রােগীব মধ্যে ক্যানসার ৫৫৭ জন, ৩৬৫ জন কিড়নি চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থ হয়েছেন। অটল অমৃত অভিযানে রাজ্যের দেড় কোটি মানুষ নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। কার্ড বানিয়েছেন। এবছর ৩ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।
সংশোধনী বিল নিয়ে সরকার কিছুই লুকোচ্ছে না : সৰ্বানন্দ সোনোয়াল

সংশোধনী বিল নিয়ে সরকার কিছুই লুকোচ্ছে না : সৰ্বানন্দ সোনোয়াল


অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি, ২৪ মে : বিজেপি-অগপ-বিপিএফ জোট সরকারের দ্বিতীয় বৰ্ষপূৰ্ত্তি উপলক্ষ্যে রাজ্যের ব্ৰহ্মপুত্ৰ-বরাক উপত্যকা, পাহাড় সমতলের ৩৩টি জেলার মানুষের স্বাভিমান, আত্মমৰ্য্যাদা, সমবিচার এবং রাজ্যবাসীর সুরক্ষা প্ৰদানের ক্ষেত্ৰে নিরলসভাবে প্ৰয়াস চালাবার অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সোনোয়াল৷ প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদীর ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ কে সাৰ্বিক ভাবে বাস্তবায়ন করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, গত দুবছরে সরকার প্ৰতিটি বিভাগে স্বচ্ছ, দুৰ্নীতিমুক্ত প্ৰশাসন উপহার দিয়েছে৷ পরিবৰ্তনের পথে প্ৰগতি এনেছে৷ আজ খানাপাড়া এ্যডমিনিষ্টেটিভ ষ্টাফ কলেজের প্ৰেক্ষাগৃহে শরিক দল অগপর মন্ত্ৰী অতুল বরা, বিপিএফ প্ৰধান হাগ্ৰামা মহিলারী, মুখ্যসচিব টি ওয়াই দাস, মুখ্যমন্ত্ৰীর আইন উপদেষ্টা শান্তনু ভরালী, বিদ্যুৎমন্ত্ৰী পীযুষ হাজরিকা, লখিমপুরের সাংসদ প্ৰদান বয়া প্ৰমূখদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্ৰী মিডিয়া এ্যাডভাইসর হৃষীকেশ গোস্বামী সরকারের ২ বছর পূৰ্ত্তি উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় অনুষ্ঠানের সূচনা করেন৷ সরকারের ২ বছরের মাথায় মুখ্যমন্ত্ৰী সরকারীভাবে তৃতীয় বার সাংবাদিক সন্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন প্ৰরে জবাব দেন৷ বার বার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্ৰরে মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্ৰী তা প্ৰায় এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এন আর সি) নবায়নের কাজ সুুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সুপ্ৰিম কোৰ্টের নিৰ্দেশে এই সৰ্বপ্ৰথম ভারতের কোনো রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এন আর সি) রূপায়নের কাজ চলছে৷ এই  কৰ্মসূচি, রাষ্ট্ৰীয় কৰ্মসূচি , সরকার এই কৰ্মসূচি  ৰূপায়ণ করছে৷ আগামি ৩০ জুন চুড়ান্ত তালিকা প্ৰকাশ পাবে৷ এই কাজ সুুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে রাজ্যের বিদেশী সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সম্পৰ্কে সরকার কিছুই লুকোচ্ছে না বলে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন, যৌথ সংসদীয় কমিটিতে এখনও তারা মতামত দেয় নি৷ রাজ্যবাসীর স্বাৰ্থ পরিপন্থী কোনও মত দেবে না৷ এই কমিটির কাজ এখনও অসম্পূৰ্ণ৷  সরকার রাজ্যবাসীকে অন্ধকারে রেখে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না৷ রাজ্যেব সীমান্তঞ্চল, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য  ব্যবস্থা, কৃষি, শিপ্লোদ্যোগ, পৰ্যটন, বন বিভাগ, পুলিশ প্ৰশাসন প্ৰভৃতি ক্ষেত্ৰে সরকারের সফলতার নানা দিক তুলে ধরেন৷ বিগত কংগ্ৰেস রাজত্ব্যেব দুনৰ্ীতির  প্ৰসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন, দুনৰ্ীতি প্ৰতিরোধে কংগ্ৰেস আন্তরিক প্ৰয়াস চালায়নি৷ মানুষের দুভৰ্ভাগ বহুগুণ বেড়ে গেয়েছিল৷ রাজ্যের শিপ্লোন্নয়নের উজ্বল ছবি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন, রাজ্যে শিপ্ল বিনিয়োগ হচ্ছে৷ রাজ্যে ‘এ্যাডভ্যান্টেজ অসম’ শীৰ্ষক বিশ্ব শিপ্ল সন্মেলন সফলভাবে রূপায়িত হওয়ায় দেশ - বিদেশের বিভিন্ন কপৰ্পারেট সংস্থার সঙ্গে ২৪০ মৌ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে৷ প্ৰায় ৮০ হাজার কোটি টাকার শিপ্ল বিনিয়োগের প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়েছে সংস্থাগুলি৷ আলফা, এনডি এফবি ব সঙ্গে কেন্দ্ৰীয় সরকারের শান্তি আলোচনা সফলভাবে চলছে, রাজ্যে শান্তির পরিবেশ ঘূরে এসেছে৷  বরাক উপত্যকায় ‘নামামি বরাক’ এবং বহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় ‘নমামি বহ্মপুত্ৰ’  উৎসব সফলভাবে বাস্তবায়নের ফলে দুই নদীর জল সম্পদ, বালি পাথর প্ৰভৃতির সদ্ব্যবহার হয়েছে৷ দুৰ্নীতি প্ৰতিরোধে সরকার শূণ্য সহনশীলতা নীতি গ্ৰহণ করার ফলে রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে৷ শুধু আবগারী বিভাগেই ৭০ শতাংশ রাজস্ব সংগ্ৰহ হয়েছে৷ জিএসটি লাগু হওয়াব ফলে ৩৩  শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে৷ এতদিন রাজস্বের সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা অন্যদের পকেটে ঢুকতো৷  মুখ্যমন্ত্ৰী রাজ্যের ২৬৩ কিঃ মিঃ ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্ৰবেশ, চোরাকারবার, গৰু পাচার প্ৰভৃতি কমেছে৷ আগামি ডিচেম্বরের মধ্যে সীমান্ত সীল করা হবে৷ জল সীমান্তে অত্যাধুনিক প্ৰযুক্তি ব্যবহার করা হবে৷ অনুপ্ৰবেশ প্ৰতিরোধে সেকেণ্ড - লাইন ডিফেন্সের ব্যবস্থা হয়েছে৷ রাজ্যের মানুষ এই মুহূৰ্তে পেট্ৰোলজাতীয় সামগ্ৰীর ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে৷ মুখ্যমন্ত্ৰী এই ব্যাপারে কোনো আশার বাণী শোনাতে পারলেন না৷ জি এ, টি লাগু হবে কি না সে ক্ষেত্ৰেও নিরব থেকে কেন্দ্ৰীয় সরকারের দিকে বল ঠেললেন৷ সাংবাদিক সন্মেলনে মুখ্যমন্ত্ৰী সবৰ্ানন্দ সনোয়াল এমন কথাও বলেন, ‘আমি যদি কোনও দোষ করে থাকি তবে আমার বিদ্ধেও লিখতে পারেন৷’ সাংবাদিক  সন্মেলন শেষে বিপিএফ প্ৰধান হাগ্ৰামা মহিলারিসাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, বিজেপি সরকার ভাল কাজ করছে৷ তাদের সঙ্গে কোনও মত বিরোধ ঘটে নি৷
লামডিংয়ে নন্দিনী’র বার্ষিক সম্মেলন : মুখপত্র ‘অস্মিতা' উদ্বোধন

লামডিংয়ে নন্দিনী’র বার্ষিক সম্মেলন : মুখপত্র ‘অস্মিতা' উদ্বোধন


স্বপন দাস, লামডিং : 
লামডিঙের মহিলা পরিচালিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘নন্দিনী’র বার্ষিক সম্মেলন সহ বইমেলার শুভ উদ্বোধন হলাে গত ১৮ মে। ১৮ মে থেকে ২০ মে অবধি চলা এই সমারােহের শুরু হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জ্যোতিপ্ৰসাদ এবং ভূপেন হাজরিকার প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য প্রদান এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। এতে অংশ নেন হরুংফার নামঘরের ‘গােপিনী সংঘ’-এর সদস্যবৃন্দ। সমবেত উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন তাপসী বরুয়ার পরিচালনায় নন্দিনীর সদস্যবৃন্দ। দিহা নাম’ পরিবেশন করেন পূর্ণিমা সনােয়লের পরিচালনায় গােপিনী সংঘের সদস্যরা। 
নিউকলােনি বয়েজ ক্লাবের বিদ্যাসাগর মঞ্চের আয়ােজিত সমারােহের পরবর্তী অনুষ্ঠান হিসাবে ছিল বইমেলার উদ্বোধন। বইমেলা প্রাঙ্গণে কলকাতা, ত্রিপুরা এবং লামডিঙের প্রকাশন সংস্থা সমূহের স্টল উদ্বোধন করেন ‘ঘরােয়া’র চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার অনুপ কুমার দাস, এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের বিভাগীয় সম্পাদক সমীর লােধ, বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি মঞ্চের সম্পাদক ভােলানাথ চক্রবর্তী, ঋষি অরবিন্দ অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ লক্ষণ রায়, গুরুকুলের শিক্ষিকা শম্পা লােখ। বই কেন পড়বাে, বই পাঠের আনন্দ উপযােগিতা নিয়ে ভাষণ দেন বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি অনিমেষ মজুমদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ‘নন্দিনী’র সভানেত্রী জয়শ্রী আচার্য। 


একই দিন বিকালে নন্দিনী সংস্থার মুখপত্র ‘অস্মিতা'র উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া শিশুদের শৈশব অসুরক্ষিত কেন' শীর্ষক আলােচনায় শিশু শ্রম, পড়াশুনােয় শিশুদের উপর অত্যধিক চাপ ইত্যাদি নিয়ে জ্ঞান গর্ভ আলােচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট কবি, সহিত্যিক এবং গবেষকগণ। উপরােক্ত অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কলকাতার কবি দেবকিশাের চক্রবর্তী, ত্রিপুরা থেকে আগত কবি, প্রাবন্ধিকদের মধ্যে গােবিন্দ ধর, অশােকানন্দ রায় বর্ধন, অভীক কুমার দে, সঞ্জীব দে ও গােপালচন্দ্র দাস। 
অনুষ্ঠানের তিনদিন আবৃত্তি, ছড়া, সংগীত, নৃত্য এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযােগিতা ছাড়াও দ্বিতীয় দিনের সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে ছিল কলকাতার ‘দিলদরিয়া সংস্থার লােকগীতি। ২০ মে-র আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান - নাটক ‘নটী বিনােদিনী'। বিভিন্ন দিনে সঞ্চালনা ও পরিচালনায় নন্দিনীর সদস্যদের ছিলেন তনুশ্রী আচার্য, অরুণা দে দাস, রিক্তা লােধ, শান্তু পাল, সুজাতা চক্রবর্তী, রেখারানি দাস, পায়েল পাল, দীক্ষা লােধ, সঞ্জু মালাকার, নিভা চক্রবর্তী এবং অন্যান্যরা।


পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দিনের গণনা চলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের জয়জয়কার

পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দিনের গণনা চলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের জয়জয়কার

জেলা পরিষদ (ভোট হয়েছে ৬২১ আসনে)
তৃণমূলবিজেপিবামকংগ্রেসঅন্যান্য
৫৮০২৩


কলকাতা : শুক্রবার দ্বিতীয় দিনেও রাজ্যের নানা জায়গায় চলছে পঞ্চায়েত ভোটের গণনা। ইতিমধ্যেই ৬৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৮৩টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং ১৮টি জেলা পরিষদ দখল করেছে তৃণমূল। ভোটের এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত হওয়া ফল অনুযায়ী সবকটি জেলা পরিষদ দখল করছে তৃণমূল। হাওড়া, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ ঘাসফুলের দখলে। তবে অল্প লড়াই হয়েছে মালদা এবং পুরুলিয়ায়। উত্তরবঙ্গও তৃণমূলের দখলে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে একচ্ছত্র আধিপত্য শাসকদলের। 
 উত্তরবঙ্গ থেকে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। পাশাপাশি জমি হারিয়ে আরও সঙ্কটে বামেরা। কোচবিহারে গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ আসন তৃণমূলের দখলে। ১৯৬৬টির মধ্যে ভোট হয়েছে ১২৯৫টি আসনে। তৃণমূলের দখলে ১০৪৮টি, বিজেপি ১১৫টি, সিপিএম ৪টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ৮টি, কংগ্রেস ৭টি এবং নির্দল ১১১টি আসনে জয়ী। দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু। কোচবিহার জেলা পরিষদে ৩২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৩১টি আসনে জয়ী, দিনহাটার একটি আসনে জয়ী নির্দল প্রার্থী। জলপাইগুড়ি জেলাতেও ঘাসফুলের দাপট। ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে তৃণমূলের দখলে ৬৯টি, বিজেপি পেয়েছে ৫টি ও বামেরা একটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে। ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু। জলপাইগুড়ির ১৯টি জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে ১৭টি তৃণমূলের দখলে। 
আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের ১৮টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে জয়ী তৃণমূল। কুমারগ্রামের ১টি আসন দখল করেছে বিজেপি। পঞ্চায়েত সমিতির ১৮৮টি আসনের মধ্যে ১৮১টি আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূল ১২৩, বিজেপি ৫৫, বামেরা ২ এবং কংগ্রেস ১টি আসনে জয় পেয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার ৬৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৩৬ টি তৃণমূল, ৮টি বিজেপি, বামেদের ১টি এবং কংগ্রেস ১টি আসন দখল করেছে। ত্রিশঙ্কু ১৬টি আসন। তরাই–ডুয়ার্সের চা বাগান বলয়ে খাতা খুলেছে বিজেপি।


পঞ্চায়েতে বিপুল জয়ের পথে তৃণমূল

পঞ্চায়েতে বিপুল জয়ের পথে তৃণমূল

কলকাতা : পঞ্চায়েত নির্বাচনের গণনা শুরু হতে দেরি হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলার সবুজ রূপ দেখা গেল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে গণনা শুরুর একঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ জেলাতেই তৃণমূল বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে শুরু করে‌ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিশ্বাস, দিনের শেষে জয়ের হাসি তারাই হাসবে। গণনা চলাকালীন এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগণায় গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এরপরই দ্বিতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগণা রয়েছে। এখানে ৮১টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসন পেয়েছে তৃণমূল। নদীয়া এবং দক্ষিণ দিনাজপুরেও তৃণমূল এখনও পর্যন্ত ৭০ এবং ৭৩টি আসন পেয়ে জয়ের পথে এগোচ্ছে। 
কোচবিহারেও ৬১টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে ব্যাপক দুরত্ব বজায় রেখে দিয়েছে তৃণমূল। বীরভূমে গণনার কিছুক্ষণের মধ্যে তৃণমূল ২১ টি আসন এগিয়ে যায় বলে জানা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি, পূর্ব–পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, মালদা, মূর্শিদাবাদ, আলিপুরদুয়ার, বীরভূম, হাওড়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম সহ সব জেলাতেই গণনার কিছুক্ষণ পরই বোঝা যায় যে তৃণমূলই জয়ী হবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে। তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপি–সিপিএম–কংগ্রেস বা নির্দল এদের আসন সংখ্যা তৃণমূলের তুলনায় অনেকটাই কম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশানুযায়ী যেহেতু গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিজয় মিছিল করা যাবে না, তাই শাসক দলের সমর্থকরা তাঁদের খুশি আপাতত একে–অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। গণনা শেষ হওয়ার পরই জেলায় জেলায় উড়বে সবুজ আবির। 
এদিকে, পুড্ডি, সারেঙ্গা বিক্রমপুর, সিমলাপাল বিক্রমপুর, কেঞ্জাকুড়া, মানকালী গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে বিজেপি শিবির। ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছে ১৩টি আসনে। বিজেপি ও সিপিএম প্রত্যেকে জিতেছে ৩ টি করে আসনে। নির্দলের ঝুলিতে ২টি আসন। বলগোনা গ্রাম পঞ্চায়েত ১৭টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী ১৪ টি আসনে, ৩টি আসনে জয়ী নির্দল। তবে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে নিত্যানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮টি আসনের ১৮টিতেই জয়লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।পাশাপাশি, বড়বেলুন ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছে ৮টি আসনে। নির্দল প্রার্থী জিতেছেন একটি আসনে । বড়বেলুন ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জয়ী তৃণমূল। একটি আসনে জয়ী সিপিএম। হলদিয়া ব্লকের দেউলপোতা গ্রামপঞ্চায়েতের ২ নং বুথে জয়ী নির্দল প্রার্থী বাতাসী রাউত।
এন আর সি : ‘ডি’ ভোটারদের সন্তান-সন্ততি, আত্মীয় স্বজনদেরও নাম বাদ দেওয়ার নােটিফিকেশ্যন

এন আর সি : ‘ডি’ ভোটারদের সন্তান-সন্ততি, আত্মীয় স্বজনদেরও নাম বাদ দেওয়ার নােটিফিকেশ্যন

# নােটিফিকেশ্যনের বিরুদ্ধে সুপ্ৰীম কোৰ্টে যাবে রাজ্যের জমিয়ত, সােসাল জাষ্টিস ফরাম
# এন আর সির প্রথম খসড়া তালিকায় ৪ লক্ষ ২৮৮ জন বাংলাদেশীকে শনাক্ত করা হয়েছে 


গুয়াহাটি : রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী নবায়নের কাজ চলছে। প্রায় ৯০ হাজার কর্মচারী এই কাজে নিয়ােজিত। ৩০ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন ধার্য করা হৈছে। এন আর সি কর্তৃপক্ষ বলেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বহিঃরাজ্যের ৫,৫০ হাজার নথির মধ্যে এখনও ৩,৯০ হাজার নথি পুনরীক্ষণ হয়ে ফিরে আসেনি। বিদেশে পাঠানাে হয়েছিলাে ৪০২ টি নথি, এর মধ্যে ফিরে আসছে মাত্র ৫০ টি নথি। এন আর সি চূড়ান্ত তালিকায় লক্ষ লক্ষ হিন্দু ও মুসলিম সংখ্যালঘু মানুষের নাম বাদ পড়বে বলে নানা মহলে হিসেব-নিকাশ চলছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর রাজ্যিক সমন্বয়ক অফিসার প্রতীক হাজেলা জানিয়েছেন, প্রথম খসড়া তালিকায় ৪ লক্ষ ২৮৮ জন বাংলাদেশীকে শনাক্ত করা হয়েছে। বিদেশি ট্রাইবুন্যাল গুলিতে নাম থাকা মানুষদের সন্তান-সন্ততি, আত্মীয় স্বজনদেরও নাম এন আর সি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এই নােটিফিকেশ্যনের বিরুদ্ধে রাজ্যের জমিয়ত, সােসাল জাষ্টিস ফরাম সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হবে বলে জানা গেছে। মূলতঃ নাগরিকত্ব সংশােধনী বিল এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জী এই দুই জ্বলন্ত ইস্যুর মাঝে রাজ্যবাসী অকুল পাথারে পড়েছে।
নাগরিকত্ব বিল : মুখ্যমন্ত্রী সনােয়ালের ফের আশ্বাস রাজ্যের স্বার্থপরিপন্থী কোনও সিদ্ধান্ত নেব না

নাগরিকত্ব বিল : মুখ্যমন্ত্রী সনােয়ালের ফের আশ্বাস রাজ্যের স্বার্থপরিপন্থী কোনও সিদ্ধান্ত নেব না

গুয়াহাটি : রাজ্যে হাজার সমস্যা, আসন্ন বর্ষায় নদী বাঁধগুলির অধিকাংশ সংস্কার হয়নি। ২৬৩ কিলােমিটার অসম বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৬১ কিলােমিটার জল ও স্থল সীমান্ত উন্মুক্ত হয়ে পরে আছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ অব্যাহত। রাজ্যের পথ-ঘাট, বিদ্যুৎ প্রভৃতি পরিকাঠামাে আজও উন্নতি হয়নি। রাজ্যে বিশ্ব শিল্প সন্মেলন হলেও শিল্প বিনিয়ােগ হয়নি। এই পরিস্থিতির মধ্যে রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশােধনী বিল নিয়ে ভাবাবেগে রাজ্যের মানুষ উত্তাল। রাজ্যজুড়ে বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদআন্দোলন চলছে। অরাজনৈতিক সংগঠন আসু এই আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার হুংকার দিয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশঃ ক্রমাবনতি ঘটছে। এই সন্ধিক্ষনে রাজ্য সরকার বিব্রত। 
মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়াল বিদেশ সফর করে ফিরে এসে বার বার রাজ্যবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আপনারা সংযম রক্ষা করুন। এমন কোনও পরিস্থিতির সৃষ্টি যাতে না হয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চিড় ধরে। মুখ্যমন্ত্রী সনােয়াল আজ আবার বলেছেন, “যৌথ সংসদীয় কমিটী (জেপিসি) দেশজুড়ে মতামত গ্রহণ করার জন্য গণ শুনানি নেওয়া শুরু করেছে। অসমে এসেছিল, রাজের মানুষ তাদের মতামত দিয়েছে। গণ শুনানি এখনও শেষ হয়নি। অসম সরকারের মতামত এখনও নেয়নি। অসম সরকার রাজ্যের মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেবে। জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না। 
প্রসঙ্গত তিনি রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে মন্তব্য করেছিলেন, জনগণ যখন চাইছেন না, তখন কেন আমি জনগণের মতের বিরুদ্ধে যাব। সে ক্ষেত্রে আমার মুখ্যমন্ত্রী থাকার কি প্রয়ােজন?’ ভিয়েতনাম থেকে ফিরেই গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মাজুলির পর আজ মাৰ্ঘেরিটা বিহু সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, রাজ্যের সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববােধ অটুট রাখতেই হবে। বরাকব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ধর্ম-ভাষানির্বিশেষে সব জনগােষ্ঠীর মানুষকে ভ্রাতৃত্ববােধের অটুট বাঁধনে বাঁধতে হবে। আমাদের দেখতে হবে, অসমের স্বার্থ যেন কোনও ভাবেই বিঘ্নিত না হয়।